বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর, ২০২৬

খেলার মাঠের অভাবে কালিয়াকৈরে অনলাইন গেম ও জুয়ায় আসক্ত হচ্ছে কিশোররা

গাজীপুরের শিল্পাঞ্চল কালিয়াকৈরে খেলার মাঠের অভাবে শিশুদের স্বাভাবিক বিকাশ রুদ্ধ হয়ে কিশোর অপরাধ বাড়ছে।

গাজীপুরের শিল্পাঞ্চল কালিয়াকৈরে উন্মুক্ত খেলার মাঠের তীব্র অভাবে শিশুদের স্বাভাবিক শারীরিক ও মানসিক বিকাশ রুদ্ধ হয়ে পড়ছে। ফলে বিকল্প বিনোদনের সুযোগ না থাকায় উপজেলার হাজার হাজার শিশু-কিশোর স্মার্টফোনের ফ্রি-ফায়ার, পাবজি, টিকটকসহ নানা ধরনের ক্ষতিকর অনলাইন গেম ও জুয়ায় আশঙ্কাজনক হারে জড়িয়ে পড়ছে। এই আসক্তির কারণে এলাকায় কিশোর অপরাধ, পারিবারিক অশান্তি এবং কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। একসময় যে মাঠগুলোতে বিকেলে ফুটবল, ক্রিকেট, গোল্লাছুট বা হাডুডুর আসর বসত, সেগুলোর বড় অংশই এখন শিল্প-কারখানার বর্জ্য ফেলে ভরাট করা হয়েছে কিংবা ব্যবহৃত হচ্ছে ট্রাক পার্কিং হিসেবে। অনেক স্থানে বখাটে ও কিশোর গ্যাংয়ের দখলের কারণে সাধারণ শিশুরা মাঠে যেতে ভয় পায়। অভিভাবকরা এই পরিস্থিতিতে গভীর দুশ্চিন্তায় আছেন। সফিপুরের বাসিন্দা রহিমা খাতুন জানান, মোবাইল ছাড়া তার সাত বছরের ছেলে পড়াশোনা করতে চায় না এবং সাড়ে তিন বছরের মেয়েও খেতে চায় না। আরেক অভিভাবক শফিকুল ইসলাম জানান, অনলাইন জুয়ায় ২০ হাজার টাকা হেরে তাঁর ছেলে এখন টাকার জন্য বাড়িতে ভাঙচুর করছে। মৌচাক ইউনিয়নের সত্তোরোর্ধ্ব বাসিন্দা আব্দুল হামিদ আফসোস করে বলেন, “আগে বিকেলে ছেলেরা মাঠে দৌড়াদৌড়ি করত। এখন মাঠ খালি, আর মোবাইল হাতে ছেলেদের সংখ্যাই বেশি। ছেলেপুলেগুলো নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।” কালিয়াকৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার সাদিয়া তাসনিম মুনমুন দীর্ঘ সময় স্ক্রিন ব্যবহারের স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করে বলেন, “দীর্ঘ সময় মোবাইলে চোখ রাখায় শিশুদের চোখের জ্যোতি কমার পাশাপাশি ঘুমের ব্যাঘাত, মেজাজ খিটখিটে হওয়া এবং মনোযোগের মারাত্মক অভাব দেখা দিচ্ছে।” স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. মজিবুর রহমান এই বিষয়টিকে 'সামাজিক ট্র্যাজেডি' উল্লেখ করেছেন। তিনি অনলাইন জুয়ার এজেন্টদের তালিকা করে আইনের আওতায় আনতে নির্দেশ দিয়েছেন এবং কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেছেন। এছাড়াও, তিনি প্রতিটি ইউনিয়নে মাঠ উদ্ধার ও নতুন মাঠ তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় আইনি ও আর্থিক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। কালিয়াকৈর পৌরসভার সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী দেওয়ান জসিম উদ্দিন বলেছেন, নির্বাচিত হলে প্রতিটি ওয়ার্ডে খেলার মাঠ ও শিশু পার্ক স্থাপন এবং মোবাইল আসক্তিবিরোধী কাউন্সেলিং চালুর পাশাপাশি অবৈধ জুয়ার আর্থিক এজেন্টদের উৎখাত করা হবে। কালিয়াকৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জানিয়েছেন, প্রশাসনিক নির্দেশনানুযায়ী গেম ও অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে জনসচেতনতা তৈরির পাশাপাশি শিগগিরই মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে।