বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর, ২০২৬

গোদাগাড়ীর ১৬৫ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৮৩টিতেই নেই প্রধান শিক্ষক

২০০৯ সাল থেকে পদোন্নতি-সংক্রান্ত মামলা চলায় শূন্য পদ পূরণ হচ্ছে না; ভারপ্রাপ্তদের ওপর বাড়তি চাপে ব্যাহত হচ্ছে পাঠদান।

রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার ১৬৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৮৩টিতেই এখন স্থায়ী প্রধান শিক্ষক নেই। অর্থাৎ প্রায় অর্ধেক বিদ্যালয় চলছে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বে থাকা সহকারী শিক্ষকদের ওপর ভর করে। দীর্ঘদিনের এই সংকটে বিদ্যালয়গুলোর পাঠদান ও প্রশাসনিক কাজে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে শিক্ষক ও অভিভাবকেরা জানিয়েছেন।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, উপজেলায় প্রধান শিক্ষকের অনুমোদিত পদ ১৬৫টি, কর্মরত আছেন মাত্র ৮২ জন। সহকারী শিক্ষকের অনুমোদিত পদ ৯৩৯টি; এর মধ্যে কর্মরত ৯২২ জন, ফলে ১৭টি পদ এখনো শূন্য। উপজেলায় বর্তমানে শিক্ষার্থী রয়েছে ৩১ হাজার ৮৩৯ জন।

সংকটের চিত্র সবচেয়ে স্পষ্ট পদ্মার চরের বিদ্যালয়গুলোতে। দিয়াড় মাকিচক, হুনমন্ত নগর, চর নওশেরা ও আষাড়িয়াদহসহ চরের আটটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কয়েক বছর ধরে কোনো স্থায়ী প্রধান শিক্ষক নেই। চর দিয়াড় মাকিচক বিদ্যালয়ে ১৭০ শিক্ষার্থীর বিপরীতে কর্মরত শিক্ষক চারজন। এই বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বে থাকা সহকারী শিক্ষক মমিনুল ইসলামকে সম্প্রতি বদলি করা হয়েছে।

ওই বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নাহিদ আকতার বলেন, নিয়মিত পাঠদানের পাশাপাশি বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক, আর্থিক ও দাপ্তরিক সব কাজই তাঁকে সামলাতে হয়। দুটি দায়িত্ব একসঙ্গে পালন করতে গিয়ে পাঠদানে সময় ও মনোযোগ কমে যায়। প্রত্যন্ত চরে যাতায়াতব্যবস্থা অনুন্নত হওয়ায় দাপ্তরিক কাজে যাওয়া-আসায় বাড়তি ভোগান্তি ও সময়ের অপচয় হয় বলেও তিনি জানান।

আষাড়িয়াদহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক চন্দনা খাতুন বলেন, ২০১৭ সাল থেকে তিনি এই দায়িত্ব পালন করছেন। চারজন শিক্ষক নিয়ে প্রশাসনিক কাজের পাশাপাশি তাঁকে নিয়মিত ক্লাসও নিতে হয়। শিক্ষার্থীরা অনেক সময় প্রত্যাশিত মানের শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হয় বলে তিনি মনে করেন।

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির গোদাগাড়ী উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম বলেন, প্রধান শিক্ষক না থাকলে সহকারী শিক্ষকদের ওপর চাপ বাড়ে, ফলে তাঁরা ঠিকমতো পাঠদান করাতে পারেন না। চর দিয়াড় মাকিচক গ্রামের অভিভাবক সামশুল ইসলাম দ্রুত স্থায়ী প্রধান শিক্ষক নিয়োগের দাবি জানান। গোদাগাড়ী নাগরিক স্বার্থ-সংরক্ষণ কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট সালাউদ্দীন বিশ্বাস বলেন, প্রধান শিক্ষকবিহীন বিদ্যালয় যেন মাঝিবিহীন নৌকা।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মুনমুন সুলতানা জানান, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রধান শিক্ষকদের গ্রেডেশন তালিকা তৈরির কাজ চলছে। তিনি আশা করছেন, শিগগিরই শূন্য পদ পূরণের কার্যক্রম শেষ করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, ২০০৯ সাল থেকে প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি-সংক্রান্ত মামলা চলমান থাকায় পদোন্নতি কার্যক্রম স্থবির হয়ে আছে। দীর্ঘ সময় পদ পূরণ না হওয়ায় সংকট প্রকট হয়েছে।