শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬

পুলিশের আট কর্মকর্তা স্থায়ীভাবে বরখাস্ত; তালিকায় সাবেক ডিবিপ্রধান হারুন ও রাজশাহী রেঞ্জের সাবেক ডিআইজি

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় শনিবার পৃথক প্রজ্ঞাপনে ক্যাডারভুক্ত আটজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে স্থায়ীভাবে বরখাস্ত করেছে।

পুলিশের ক্যাডারভুক্ত আটজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে স্থায়ীভাবে বরখাস্ত করেছে সরকার। শনিবার (৩১ অক্টোবর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করে এ শাস্তি দেয়। বরখাস্ত কর্মকর্তাদের মধ্যে দুজন ডিআইজি, একজন অতিরিক্ত ডিআইজি, একজন সাবেক পুলিশ সুপার (এসপি) এবং তিনজন সহকারী পুলিশ সুপার বা সহকারী কমিশনার রয়েছেন।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী যাঁদের নাম ও পরিচয় উল্লেখ আছে, তাঁরা হলেন ডিএমপির সাবেক অতিরিক্ত কমিশনার ও ডিবিপ্রধান মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ, রাজশাহী রেঞ্জের সাবেক ডিআইজি মো. আনিসুর রহমান, হাইওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি শ্যামল কুমার মুখার্জী, লক্ষ্মীপুরের সাবেক পুলিশ সুপার তারেক বিন রশীদ, ডিএমপির তেজগাঁও ট্রাফিক বিভাগের সাবেক সহকারী কমিশনার কাজী মিজানুর রহমান, ডিএমপি ট্রাফিকের সহকারী কমিশনার ফারহানা তাসকিন এবং সহকারী পুলিশ সুপার মো. মনিরুজ্জামান। আটজনের মধ্যে সাতজনের সুনির্দিষ্ট নাম ও পরিচয় প্রজ্ঞাপনে আছে বলে জানা গেছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনসূত্রে জানা যায়, সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে এ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কাজী মিজানুর রহমানকে নারীসংক্রান্ত অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগে এবং যশোরের সাবেক পুলিশ সুপার আনিসুর রহমানকে ‘ক্রসফায়ার’-এর নামে সাঈদুর রহমান নামে এক ব্যক্তিকে হত্যার অভিযোগে স্থায়ীভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।

হারুন অর রশীদের ক্ষেত্রে প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার হিসেবে কর্মরত থাকাকালে তিনি যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন। তাঁর বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা এবং ই-মেইলে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি কাজে যোগ দেননি। সরকারি চাকরিবিধি অনুযায়ী এই অনুপস্থিতিকে ‘পলায়ন’ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে এবং বরখাস্তের আদেশ ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট থেকে কার্যকর ধরা হবে।

প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থার প্রস্তাব পুলিশ অধিদপ্তর থেকে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। ২০২৬ সালের ১৫ এপ্রিল তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা (নম্বর ০০৫/২০২৫) করা হয়। কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হলেও তিনি নির্ধারিত সময়ে লিখিত জবাব দেননি এবং সময় বাড়ানোর আবেদনও করেননি।