ইসরায়েলের নতুন পার্লামেন্ট (নেসেট) শুরুর দিনই স্পিকার আমির ওহানাকে সরাতে চায় প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরোধী রাজনৈতিক শিবির। এই শিবিরে ইসরায়েলের আরব নাগরিকদের প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলোও রয়েছে এবং এ নিয়ে তাদের মধ্যে সমঝোতা হয়েছে বলে ইসরায়েলি গণমাধ্যমের খবরে জানা গেছে।
গত মঙ্গলবারের নির্বাচনের চূড়ান্ত ফল অনুযায়ী ১২০ আসনের পার্লামেন্টে নেতানিয়াহুর কট্টর ডানপন্থী জোট পেয়েছে ৫৩টি আসন। সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকটের বিরোধী জোট পেয়েছে ৪৮টি। আরব দল জয়েন্ট লিস্ট ও রা’আম পেয়েছে মোট ১৯টি আসন। সরকার গঠনে ন্যূনতম ৬১ আসন দরকার; কোনো পক্ষই এককভাবে তা পায়নি। তবে আইজেনকটের জোট আরব দলগুলোকে সঙ্গে নিলে সরকার গঠন করতে পারবে। বিরোধী জোট ও আরব দলগুলোর সম্মিলিত আসন ৬৭, ফলে স্পিকার বদলের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা তাদের আছে।
ইসরায়েলি রাজনৈতিক বিশ্লেষক বারাক সেরি জানিয়েছেন, ‘পরিবর্তন জোট’ নামে পরিচিত বিরোধী দলগুলোর মধ্যে ওহানাকে সরানোর বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে। নতুন স্পিকার কে হবেন, তা তিনি নিশ্চিত করেননি; তবে বিভিন্ন প্রতিবেদনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইয়াইর লাপিদের নাম আসছে। খবরে বলা হয়েছে, নতুন নেসেটের সদস্যদের শপথের দিনই এ নিয়ে ভোট হতে পারে।
বিরোধী দল ডেমোক্র্যাটসের নেতা ইয়াইর গোলান শুক্রবার একটি টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে বলেন, সদস্যদের শপথের পর তাঁদের প্রথম কাজ হবে নতুন স্পিকার নিয়োগ। এরপর পার্লামেন্টের বিভিন্ন কমিটির প্রধান নিয়োগ এবং ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলার তদন্তে রাষ্ট্রীয় তদন্ত কমিশন গঠন করা হবে। নেতানিয়াহুর লিকুদকে নিয়ে জাতীয় ঐক্যের সরকারের সম্ভাবনা তিনি নাকচ করে বলেন, ‘একেবারেই না। সেটি হবে আরেকটি নেতানিয়াহু সরকার।’
ইসরায়েলের সরকারি সম্প্রচারমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ইসরায়েল বেইতেনু পার্টির নেতা আভিগদর লিবারম্যান এখনো এ উদ্যোগে পুরোপুরি একমত নন, কারণ তিনি আরব দলগুলোর সঙ্গে কাজ করতে অনাগ্রহী। লিবারম্যান প্রস্তাবের পক্ষে ভোট না দিলে অন্য বিরোধী নেতারা তাঁকে ভোটদানে বিরত থাকতে অনুরোধ করতে পারেন; তাতেও সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত হবে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ওহানা লিকুদের নেতা এবং নেতানিয়াহুর ঘনিষ্ঠ। নতুন নেসেটের কার্যক্রম শুরু হবে আগামী ১০ নভেম্বর।