শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬

চট্টগ্রাম মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ৬৬ হাজার ৪১৮ মামলা, বিচারক মাত্র আটজন

১৬টি থানার বিপরীতে আদালত আছে আটটি; ২০০৮ সালের পর নতুন আদালত না হওয়ায় প্রতিজন বিচারকের কাঁধে গড়ে ৮ হাজার ৩০০টির বেশি মামলা।

চট্টগ্রাম মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৬ হাজার ৪১৮। অথচ এসব মামলার বিচারকাজ চালাচ্ছেন মাত্র আটজন বিচারক। ১৬টি থানার বিপরীতে আদালত রয়েছে আটটি। দীর্ঘদিন আদালতের সংখ্যা না বাড়ায় মামলার জট ভয়াবহ আকার নিয়েছে বলে আদালত-সংশ্লিষ্টরা জানান।

তাঁদের ভাষ্য, বিচারপ্রার্থীদের দুর্ভোগের পাশাপাশি বিচারকদের ওপরও অস্বাভাবিক কাজের চাপ তৈরি হয়েছে। সীমিত জনবল নিয়ে বিপুলসংখ্যক মামলার শুনানি, আদেশ ও বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে গিয়ে আদালত কার্যত হিমশিম খাচ্ছে। আদালতের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে প্রতিজন মহানগর ম্যাজিস্ট্রেটের কাঁধে গড়ে ৮ হাজার ৩০০টিরও বেশি মামলার দায়িত্ব রয়েছে।

তথ্য বলছে, ২০০৭ সালে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা ১৫ হাজার ১০৬টিতে পৌঁছালে ২০০৮ সালে মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সংখ্যা বাড়িয়ে আটটি করা হয়। এরপর টানা ১৮ বছরে মহানগরের জনসংখ্যা ও অপরাধের পরিমাণ বহুগুণ বাড়লেও নতুন কোনো চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালত গঠন করা হয়নি।

আদালতের হিসাবে, ২০২৪ সালে বিচারাধীন মামলা ছিল ৫৯ হাজার ৯৪৯টি। ২০২৫ সালে তা বেড়ে হয় ৬৬ হাজার ২৪৯টি; ওই বছর নিষ্পত্তি হয় ৩৯ হাজার ৮১৫টি মামলা। চলতি বছরের জুলাইয়ে ৭ হাজার ৮৬০টি, আগস্টে ১৪ হাজার ২০৬টি এবং সেপ্টেম্বরে ১৩ হাজার ৪৮৯টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। প্রতিদিন গড়ে দুই শতাধিক নতুন মামলা যুক্ত হওয়ায় পুরোনো মামলা নিষ্পত্তির পাশাপাশি নতুন মামলার চাপও সামলাতে হচ্ছে বিচারকদের।

আদালতের প্রশাসনিক কর্মকর্তারা জানান, ২০১৩ সাল থেকে আদালতের সংখ্যা বাড়ানোর জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এবং আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে একাধিকবার চিঠি দেওয়া হয়েছে। সর্বশেষ গত জানুয়ারিতে অতিরিক্ত তিনটি সিএমএম আদালত ও ২০টি মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত প্রতিষ্ঠার জন্য আবেদন করা হয়। কিন্তু এ বিষয়ে এখনো কার্যকর অগ্রগতি হয়নি।

আদালত সূত্র জানায়, ১৯৭৯ সালের নভেম্বরে একজন সিএমএম ও তিনজন মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটকে নিয়ে চট্টগ্রাম মহানগরে ম্যাজিস্ট্রেসির কার্যক্রম শুরু হয়। এরপর থানার সংখ্যা বেড়ে ১৬টিতে দাঁড়ালেও সেই অনুপাতে আদালত বাড়েনি।