রবিবার, ০১ নভেম্বর, ২০২৬

অক্টোবরে ডেঙ্গুতে এক মাসে সর্বোচ্চ ১৭৩-১৭৪ জনের মৃত্যু, ডিসেম্বরের আগে স্বস্তির আশা কম: বিশেষজ্ঞরা

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মৃত্যু ৪১৯; কীটতত্ত্ববিদ বলছেন, নভেম্বরজুড়েই সংক্রমণ চলতে পারে।

দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি ক্রমেই উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের অক্টোবরে ডেঙ্গুতে মৃত্যু হয়েছে ১৭৩ থেকে ১৭৪ জনের (বিভিন্ন প্রতিবেদনে সংখ্যাটি কিছুটা ভিন্ন), যা এক মাসে সর্বোচ্চ। চলতি বছর এখন পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ৪১৯ জনের।

মাসওয়ারি হিসাবে জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দুজন, মার্চ ও এপ্রিলে শূন্য, মে মাসে একজন এবং জুনে ১৩ জন মারা যান। এরপর পরিস্থিতির অবনতি হয়: জুলাইয়ে ৩৬ জন, আগস্টে ৪৩ জন এবং সেপ্টেম্বরে ১৪৮ জনের মৃত্যু হয়। চলতি বছর সারা দেশে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ৩৩ হাজার থেকে ১ লাখ ৩৫ হাজারের মধ্যে বলা হচ্ছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ প্রতিবেদনে ২৪ ঘণ্টায় নতুন ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৬৩৩ জন; এর মধ্যে রাজশাহী বিভাগে ১৪৯, খুলনায় ২২৮, বরিশালে ২৩৪ ও চট্টগ্রাম বিভাগে ২৮১ জন। বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছয় হাজার ২৩৬ জন, তাঁদের মধ্যে ঢাকা মহানগরেই ১ হাজার ৫১৮ জন।

রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক মির্জা গোলাম সারওয়ার জানান, একদিনে নতুন ৬৭ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন এবং হাসপাতালে এখন ২৭৯ জন চিকিৎসাধীন। তাঁর ভাষ্য, অনেক রোগী গুরুতর জটিলতা নিয়ে আসছেন; কারও রক্তচাপ বিপজ্জনকভাবে কমে যাচ্ছে, শরীরে অক্সিজেনের মাত্রাও নেমে আসছে।

মেডিসিন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. এ বি এম আবদুল্লাহ বলেন, পুনরায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়া এবং রোগ শনাক্ত ও চিকিৎসায় বিলম্ব গুরুতর জটিলতার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। আগে একবার আক্রান্ত ব্যক্তি ভিন্ন ধরনের ভাইরাসে আবার সংক্রমিত হলে গুরুতর অসুস্থতার আশঙ্কা বেশি থাকে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশে ডেঙ্গু ভাইরাসের চারটি ধরনের উপস্থিতি পরিস্থিতি আরও জটিল করেছে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কীটতত্ত্ববিদ কবিরুল বাশার জানান, নভেম্বরজুড়েই ডেঙ্গুর সংক্রমণ অব্যাহত থাকতে পারে। অক্টোবরের তুলনায় মৃত্যু কিছুটা কমলেও ডিসেম্বরের আগে উল্লেখযোগ্য উন্নতির সম্ভাবনা কম। তাঁর ব্যাখ্যা, বৃষ্টি কমে এলেও আগে জমে থাকা পানিতে এডিস মশার বংশবিস্তার চলছে, আর জলবায়ু পরিবর্তনে বৃষ্টি ও আর্দ্রতার ধরন বদলানোয় মশার প্রজনন মৌসুম দীর্ঘ হচ্ছে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু চিকিৎসাব্যবস্থা জোরদার করলে হবে না; মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও জনসচেতনতাও সমান জরুরি। বাড়ির আশপাশ, ছাদ, ফুলের টব ও পরিত্যক্ত পাত্রে জমে থাকা পানি সরাতে এবং জ্বরের সঙ্গে তীব্র পেটব্যথা, বারবার বমি, রক্তপাত বা অতিরিক্ত দুর্বলতা দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে যেতে পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকেরা।