বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর, ২০২৬

আমু-শাহজাহান খানসহ ছয়জনকে হাজিরের নির্দেশ, মির্জা আজমের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা; পরবর্তী শুনানি ২২ নভেম্বর

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাতজনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আমির হোসেন আমু ও সাবেক নৌপরিবহনমন্ত্রী শাহজাহান খানসহ সাতজনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে গ্রেপ্তার ছয় আসামিকে হাজির করার নির্দেশ এবং মির্জা আজমের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের প্যানেল এ আদেশ দেন। প্যানেলের অন্য দুই সদস্য বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

এদিন প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামীম। তিনি মামলায় আনা অভিযোগ তুলে ধরেন এবং প্রাথমিক অভিযোগের ভিত্তিতে তা আমলে নেওয়ার আবেদন জানান। গ্রেপ্তার ছয়জনের বিরুদ্ধে প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট এবং একজনের নামে গ্রেপ্তারি পরোয়ানারও আর্জি জানান তিনি। শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল আবেদন মঞ্জুর করেন। মামলার পরবর্তী শুনানির জন্য ২২ নভেম্বর দিন ধার্য করা হয়েছে।

আমু ও শাহজাহান খান ছাড়া মামলার অন্য আসামিরা হলেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম, সাবেক বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) ফারুক খান, সাবেক কৃষিমন্ত্রী আবদুর রাজ্জাক, শেখ হাসিনার বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদবিষয়ক সাবেক উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী এবং সাবেক মন্ত্রী ডা. দীপু মনি। এঁদের মধ্যে মির্জা আজম ছাড়া বাকিরা কারাগারে আছেন।

এর আগে ২ নভেম্বর প্রসিকিউশন এই সাত নেতার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে। অভিযোগে বলা হয়েছে, জুলাইয়ের হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সুপিরিয়র কমান্ড রেসপন্সিবিলিটির দায়ে তাঁদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে। আদালতে দোষ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা অভিযুক্ত হিসেবেই বিবেচিত হবেন।