চাল ও ভোজ্যতেলের বাজারে উৎপাদন বা আমদানি পর্যায় থেকে খুচরা বিক্রি পর্যন্ত দামের ব্যবধান ভোক্তাদের উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরবরাহ শৃঙ্খলের কোন পর্যায়ে কতটা মুনাফা যুক্ত হচ্ছে, তার স্বচ্ছ হিসাব সাধারণ ভোক্তার সামনে নেই।
বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণা তথ্যে দেখা যায়, মাঝারি মানের পাইজাম চাল উৎপাদন পর্যায়ে কেজিপ্রতি গড়ে ৩০ টাকা ৬৫ পয়সায় বিক্রি হলেও খুচরা বাজারে তার দাম ছিল ৫৯ টাকা ৬৯ পয়সা। দুই পর্যায়ের ব্যবধান ২৯ টাকা ৪ পয়সা, যা উৎপাদন পর্যায়ের দামের প্রায় ৯৫ শতাংশ। একই গবেষণায় দেখা যায়, উৎপাদক থেকে খুচরা বাজারে পৌঁছাতে কাঁচামরিচের দাম ১১৬ শতাংশ এবং দেশি পেঁয়াজের দাম ৮৭ শতাংশ বেড়ে যায়।
ব্যবধান মানেই মুনাফা নয়
ধান উৎপাদন, চাল প্রক্রিয়াজাতকরণ, পরিবহন ও বিপণনের ব্যয় দামের ওপর প্রভাব ফেলে। ভোজ্যতেলের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক বাজারদর, আমদানি ব্যয়, শুল্ক ও সরবরাহ ব্যবস্থাও গুরুত্বপূর্ণ। আমদানি করা এক লিটার ভোজ্যতেল খুচরা দোকানে বিক্রির আগে কয়েকটি পর্যায় পার হয়, আর প্রতিটি ধাপে ব্যয় যুক্ত হওয়া স্বাভাবিক।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, উৎপাদন বা আমদানি পর্যায়ের দাম এবং খুচরা দামের মধ্যে বড় ব্যবধান দেখা গেলেও সেটিকে সরাসরি ব্যবসায়ীদের মুনাফা হিসেবে চিহ্নিত করার সুযোগ নেই। প্রকৃত চিত্র বুঝতে উৎপাদন ব্যয়, আমদানি মূল্য, পরিবহন, সংরক্ষণ, কমিশন, কর এবং প্রতিটি পর্যায়ের ক্রয়-বিক্রয়ের হিসাব একসঙ্গে বিশ্লেষণ করা দরকার। না হলে মূল্যবৃদ্ধির প্রকৃত কারণ আড়ালেই থেকে যাবে।
এ অবস্থায় চাল ও তেলের দাম বাড়লে সবচেয়ে বেশি চাপে পড়েন সীমিত আয়ের মানুষ। অন্যদিকে উৎপাদক, আমদানিকারক, মিল মালিক, পাইকার ও খুচরা বিক্রেতার মধ্যে বাড়তি দামের সুবিধা কীভাবে ভাগ হচ্ছে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। এসব কারণে বাজার তদারকির কার্যকারিতা খতিয়ে দেখার তাগিদ দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।