বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর, ২০২৬

নেপালে ‘জেন-জি’ আন্দোলনে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ: মৃত ১৮, আহত দুই শতাধিক

দুর্নীতি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধকরণের বিরুদ্ধে তরুণদের অভূতপূর্ব বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে রাজধানী কাঠমান্ডুসহ দেশজুড়ে; বহু এলাকায় জারি হয়েছে কারফিউ

নেপালে জেন-জি বিক্ষোভ
ছবি: নেপালে জেন-জি বিক্ষোভ

নেপালে দুর্নীতি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধকরণের প্রতিবাদে চলমান ‘জেন-জি’ আন্দোলন ভয়াবহ রক্তক্ষয়ী রূপ নিয়েছে। সর্বশেষ সরকারি ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, এ পর্যন্ত অন্তত ১৮ জন নিহত হয়েছেন এবং ২০০-র বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাঠমান্ডু ভ্যালি ছাড়াও একাধিক জেলায় কারফিউ জারি করা হয়েছে।

নেপালে তরুণ প্রজন্মের নেতৃত্বে দুর্নীতি বিরোধী ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধকরণের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া গণবিক্ষোভ দেশব্যাপী ব্যাপক সংঘর্ষে রূপ নিয়েছে। গতকাল রাতভর এবং সোমবার ভোর পর্যন্ত চলা সংঘর্ষে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৮ জনে। আহতের সংখ্যা দুই শতাধিক ছাড়িয়েছে, যার মধ্যে বিক্ষোভকারী, নিরাপত্তা বাহিনী এবং সাংবাদিকও রয়েছেন।

নিহতদের সংখ্যা ও হাসপাতালের পরিস্থিতি

কাঠমান্ডু ভ্যালিতেই ১৬ জন এবং ইটাহারিতে ২ জন প্রাণ হারিয়েছেন। হাসপাতালগুলোর হিসাব অনুযায়ী, ট্রমা সেন্টারে ৭ জন, এভারেস্ট হাসপাতালে ৩ জন, সিভিল হাসপাতালে ৩ জন, কাঠমান্ডু মেডিকেল কলেজে ২ জন এবং ত্রিভুবন বিশ্ববিদ্যালয় টিচিং হাসপাতালে ১ জনের মৃত্যু হয়েছে।
অতিরিক্ত আহত রোগীর চাপ সামলাতে ট্রমা সেন্টার ও সিভিল হাসপাতাল রোগীদের অন্য প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে শুরু করেছে। নিহতদের পরিচয় এখনো নিশ্চিত করা যায়নি। নেপালের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় আহতদের বিনামূল্যে চিকিৎসার নির্দেশ দিয়েছে।

আন্দোলনের বিস্তার ও কারফিউ

রাজধানী কাঠমান্ডুতে সংসদ ভবন এলাকায় সহিংসতার পর নিউ বানেশ্বরসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে কারফিউ জারি হয়েছে।

পোখারা (কাশকি): বিকেল ২টা থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য শাহিদ চৌক ও আশপাশের এলাকায় কারফিউ জারি করা হয়েছে।

ইটাহারি (সুনসারি): বিকেল ৩টা ৩০ মিনিট থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য কারফিউ চলছে।

বুটওয়াল–ভৈরহাওয়া (রূপানদেহি): সোমবার বিকেল ৪টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত কারফিউ বলবৎ ছিল।

কাঠমান্ডু ছাড়াও বিরাটনগর, চিতওয়ান, ঝাপা ও রূপানদেহিতে ব্যাপক বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। এসব জায়গায় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠছে।

আন্দোলনের প্রেক্ষাপট

তরুণ প্রজন্মের এই অভূতপূর্ব বিক্ষোভ শুরু হয় মূলত দীর্ঘদিনের দুর্নীতি, রাজনৈতিক দায়মুক্তি এবং সরকারি অনিয়মের বিরুদ্ধে ক্ষোভ থেকে। তবে গত ৪ সেপ্টেম্বর সরকার হঠাৎ করে ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, ইউটিউবসহ ২৬টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম নিষিদ্ধ করলে ক্ষোভ বিস্ফোরিত হয়।

আন্দোলনে অংশ নেওয়া একাধিক শিক্ষার্থী ও তরুণ জানিয়েছে, তারা কোনো রাজনৈতিক দলের হয়ে নয়, বরং নিজেদের ভবিষ্যৎ রক্ষার জন্য এই আন্দোলনে নেমেছে।

সরকারের অবস্থান

প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি আন্দোলনকারীদের সমালোচনা করে বলেছেন, “যারা স্বাধীনভাবে চিন্তা করতে পারে না, তারা স্বাধীনতার কথা বলছে।” তবে সরকারের এই অবস্থান আন্দোলনকে আরও তীব্র করেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।