ভূমিহীন ও অসহায় মানুষের মাথা গোঁজার ঠাঁই করে দিতে একসময় নির্মাণ করা হয়েছিল গুচ্ছগ্রাম বা আশ্রয়ণ প্রকল্প। উদ্দেশ্য ছিল, আশ্রয়হীন মানুষ নিরাপদ আবাসন পাবেন এবং স্বাভাবিক জীবনে ফিরবেন। মাদারীপুরের কালকিনিতে সরেজমিনে দেখা যায়, সময়ের ব্যবধানে সেই স্বপ্ন অনেকটাই ফিকে হয়ে গেছে।
কালকিনি পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চর পাঙ্গাশিয়া গ্রামের গুচ্ছগ্রামে ঘুরে দেখা যায়, ৪০ বছর আগে নির্মিত ঘরগুলোর টিনের চালায় মরিচা ধরেছে, কোথাও বেড়া ভাঙা, কোথাও ঘর হেলে পড়ে ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। বাসিন্দারা জানান, সামান্য বৃষ্টিতেই ঘরের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ভিজে যায়। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় সরকারি এই ঘরই এখন তাঁদের দুর্ভোগের কারণ।
বাসিন্দারা জানান, নতুন ঘরের আশায় জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কাছে তাঁদের অনেকে বারবার ধরনা দিয়েছেন, কিন্তু বছরের পর বছর পেরিয়ে গেলেও নতুন বাসস্থান জোটেনি। গুচ্ছগ্রামে যাতায়াতের জন্য পাকা রাস্তা নেই; বর্ষায় কাদাপানিতে চলাচল দুর্বিষহ হয়ে পড়ে। সড়কবাতি না থাকায় রাত নামলেই অন্ধকার নেমে আসে, ফলে শিশু, নারী ও বৃদ্ধদের চলাচলে নিরাপত্তাহীনতা বাড়ে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মাদারীপুরের প্রায় প্রতিটি গুচ্ছগ্রামের চিত্র একই রকম।
এর পাশাপাশি আশ্রয়ের জন্য পাওয়া সরকারি ঘর ও জমি নিয়েও গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। হতদরিদ্রদের জন্য বরাদ্দ করা ঘর ও জমি প্রভাবশালীরা জোরপূর্বক লিখে নিচ্ছেন বলে অভিযোগ আছে। চর পাঙ্গাশিয়া গ্রামের ফজিলা বেগম নামের এক বৃদ্ধার অভিযোগ, ধার নেওয়া মাত্র ২০ হাজার টাকা পরিশোধ করতে না পারায় তাঁর কাছ থেকে জোরপূর্বক ঘর ও জমি লিখে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।