শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬

কিউবাবাসীকে সিআইএর সঙ্গে ‘গোপন অংশীদারি’র আহ্বান রুবিওর; হাভানা বলল, এটি ‘হতাশার’ প্রকাশ

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও পরিবর্তনকামী কিউবানদের সিআইএর সঙ্গে ‘গোপন অংশীদারি’তে আসতে বলায় কিউবা একে যুক্তরাষ্ট্রের ‘হতাশা’ বলে উপহাস করেছে; একই দিনে ট্রাম্প আবার সামরিক হস্তক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়েছেন।

কিউবার যেসব নাগরিক দেশটিতে রাজনৈতিক পরিবর্তন চান, তাঁদের যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর সঙ্গে ‘গোপন অংশীদারি’ গড়ার আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। শুক্রবার এই আহ্বানকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘হতাশা’ বলে উপহাস করেছে হাভানা। আরব নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, একই সময়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও কিউবায় সম্ভাব্য সামরিক হস্তক্ষেপের কথা তুলেছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্টে রুবিও লেখেন, “যাঁরা কিউবায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে চান, এখনই সময়।” তিনি ব্যর্থ প্রতিশ্রুতি, দুর্নীতি এবং গুটিকয়েক মানুষের সুবিধাভোগী জীবনের কথা উল্লেখ করেন। পরে সিআইএ স্প্যানিশ ভাষায় একটি ভিডিও প্রকাশ করে তথ্য পাঠানোর উপায় ব্যাখ্যা করে। তাতে বলা হয়, নিরাপদ হলে কোনো সরকারি মার্কিন স্থাপনায় সরাসরি যাওয়া যেতে পারে, অথবা নিরাপদ ইন্টারনেট সংযোগ, প্রাইভেট ব্রাউজার ও একটি অস্থায়ী ইমেইল ঠিকানা ব্যবহার করে অনলাইনে যোগাযোগ করা যেতে পারে।

জবাবে কিউবার উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কার্লোস ফার্নান্দেজ দে কোসিও এক্সে লেখেন, যুক্তরাষ্ট্র এখন সিআইএর জন্য ‘প্রকাশ্যে লোক নিয়োগ’ করছে। তাঁর ভাষায়, সংস্থাটির ভেতরে নিশ্চয়ই প্রচণ্ড হতাশা রয়েছে, নইলে তারা নিজেদের সেবা ‘টুথপেস্টের টিউবের মতো’ বিক্রি করতে বাধ্য হতো না।

আরব নিউজ জানায়, রুবিওর এই আহ্বানের কয়েক ঘণ্টা আগে ফ্লোরিডায় এক সমাবেশে ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শেষে ফেরা মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলো কিউবার উপকূলে থামতে পারে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, একটি জাহাজ উপকূল থেকে প্রায় ৫০ গজ দূরে দাঁড়াবে, তারপর ‘চুক্তিটা শেষ করতে’ রুবিওকে পাঠানো হবে। কিউবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রুনো রদ্রিগেস এক্সে লেখেন, কিউবার উপকূলে সুন্দর সৈকত থাকলেও ধারালো চুনাপাথরের খাঁজও আছে, যা প্রতিকূল উদ্দেশ্য নিয়ে আসা কারও জন্য অনুপযোগী।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র কিউবার ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে এবং জানুয়ারি থেকে কার্যত জ্বালানি অবরোধ বজায় রেখেছে; দেশটিতে জ্বালানি সরবরাহকারী দেশগুলোকেও শাস্তির হুমকি দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যেই ৯৫ বছর বয়সী সাবেক প্রেসিডেন্ট রাউল কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে ফ্লোরিডার শীর্ষ প্রসিকিউটর এই সপ্তাহে ১৯৯৬ সালে দুটি বেসামরিক বিমান ভূপাতিত করার ঘটনায় রাজ্য পর্যায়ে খুনের অভিযোগে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ঘোষণা করেছেন। মে মাসে তাঁর বিরুদ্ধে ফেডারেল অভিযোগও আনা হয়। কিউবা সরকার ফেডারেল মামলাকে ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছে এবং প্রেসিডেন্ট মিগেল দিয়াজ-কানেল বলেছেন, ওয়াশিংটন সামরিক আগ্রাসনের যুক্তি খুঁজছে।

প্রায় ৯৪ লাখ মানুষের দেশ কিউবা দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যুৎ বিভ্রাট, ঘাটতি, মূল্যস্ফীতি ও দেশত্যাগের মতো অর্থনৈতিক ও জ্বালানি সংকটে ভুগছে। সংবাদটি একটি সূত্র—আরব নিউজের প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে তৈরি।