বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে উর্দু বিভাগের সভাপতিকে হেনস্তার অভিযোগ ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে, অভিযোগ অস্বীকার

শিক্ষার্থীকে ডিসকলেজিয়েট করাকে কেন্দ্র করে প্যারিস রোডে অধ্যাপক শহিদুল ইসলামকে গালাগাল ও হাত ধরে টানাটানির অভিযোগ উঠেছে; প্রশাসন বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।

পরীক্ষার ফরম পূরণকে কেন্দ্র করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উর্দু বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. শহিদুল ইসলামকে হেনস্তা করার অভিযোগ উঠেছে শাখা ছাত্রদলের এক নেতার বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার দুপুর দেড়টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যারিস রোডে এ ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।

অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতার নাম বুলবুল রহমান। তিনি উর্দু বিভাগের ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী এবং শাখা ছাত্রদলের সহসভাপতি। বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, উর্দু বিভাগের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের এক শিক্ষার্থীর উপস্থিতির হার ৪৯ শতাংশ হওয়ায় তাঁকে ডিসকলেজিয়েট করা হয়। ফলে ওই শিক্ষার্থীর পরীক্ষার ফরম পূরণ ও পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় বিভাগ।

অভিযোগ অনুযায়ী, ওই শিক্ষার্থীকে পরীক্ষায় বসার সুযোগ দেওয়ার অনুরোধ নিয়ে বিভাগের সভাপতির সঙ্গে দেখা করেন বুলবুল রহমান। দীর্ঘ আলোচনার পরও সভাপতি রাজি না হওয়ায় তাঁকে গালাগাল ও আপত্তিকর মন্তব্য করা হয়। অধ্যাপক শহিদুল ইসলামের অভিযোগ, তিনি ঘটনার ভিডিও করতে গেলে তাঁর মুঠোফোন কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এ ছাড়া প্রকাশ্যে তাঁর হাত ধরে টানাটানি করা হয়।

অধ্যাপক শহিদুল ইসলাম বলেন, অভিযুক্ত তাঁর বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং ফোন করে দেখা করতে বলেছিলেন। তাঁর দাবি, ওই শিক্ষার্থী বিভাগের শিক্ষক হতে চান, কিন্তু অনার্সে সিজিপিএ কম থাকায় আবেদন করতে পারেননি; এ কারণেই তিনি ক্ষিপ্ত। অধ্যাপক বলেন, প্রকাশ্যে সবার সামনে এমন আচরণ তাঁর জন্য অত্যন্ত লজ্জাজনক। তিনি প্রশাসনকে মৌখিকভাবে বিষয়টি জানিয়েছেন এবং সুষ্ঠু বিচার চান।

অভিযোগ অস্বীকার করে বুলবুল রহমান বলেন, তিনি তাঁর ছোট ভাইয়ের জন্য মানবিক দিক বিবেচনায় পরীক্ষায় বসতে দেওয়ার অনুরোধ করেছেন। তাঁর ভাষ্য, ওই শিক্ষার্থী দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকায় ক্লাস করতে পারেননি। তিনি বলেন, ঘটনাটি বন্ধ ঘরে নয়, সবার সামনে ঘটেছে; তাহলে কেন তিনি হেনস্তা করবেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মোহা. মাহবুবর রহমান বলেন, বিষয়টি হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই, গুরুত্বের সঙ্গে দেখতে হবে। শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল আলিম বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত অনাকাঙ্ক্ষিত। তাঁর কাছে কিছু তথ্য এসেছে, তবে সব তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি; বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।