মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ: স্বামীসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা, পরিবারের অভিযোগ হত্যার

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় স্বামীর বাসা থেকে ফার্মেসি বিভাগের শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় যৌতুকের দাবিতে নির্যাতন ও আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা হয়েছে।

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের এক শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় তাঁর স্বামীসহ সাতজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। সোমবার দুপুরে ফতুল্লা মডেল থানায় শিক্ষার্থীর বাবা বাদী হয়ে মামলাটি করেন। মামলায় যৌতুকের দাবিতে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন এবং আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ আনা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, গত শনিবার রাতে ফতুল্লার ভুঁইগড় এলাকার একটি বাসা থেকে ২৩ বছর বয়সী ওই শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পর তাঁর স্বামীকে আটক করা হয়। মামলার অন্য আসামিরা হলেন স্বামীর ভগ্নিপতি, বোন, দুই ভাই, এক ভাইয়ের স্ত্রী এবং মা। রোববার রাতে জানাজা শেষে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার একটি কেন্দ্রীয় কবরস্থানে শিক্ষার্থীর মরদেহ দাফন করা হয়।

এজাহারে বাদী উল্লেখ করেন, ২০২৩ সালের নভেম্বরে সাত লাখ টাকা দেনমোহরে তাঁর মেয়ের বিয়ে হয়। তিনি জামাতাকে বিভিন্ন সময়ে টাকা ও জিনিসপত্র দিয়ে সহায়তা করতেন। পরে আর্থিক সহায়তা কমিয়ে দিলে স্বামী ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা যৌতুক দাবি করতে থাকেন বলে অভিযোগ। এর আগে যৌতুকের দাবিতে নির্যাতনের অভিযোগে বাবা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আদালতে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে একটি মামলা করেছিলেন; পরে সমঝোতার মাধ্যমে মেয়ে আবার স্বামীর সঙ্গে সংসার শুরু করেন।

এজাহারে আরও বলা হয়েছে, ঘটনার দিন বেলা তিনটার দিকে স্বামীর ভগ্নিপতি বাদীর ছেলেকে ফোন করে আগের মামলা তোলা হয়েছে কি না জানতে চান। রাত নয়টার দিকে ফোন করে তিনি জানান, স্বামীর বাসায় মেয়েটি গলায় ফাঁস দিয়েছেন। খবর পেয়ে বাদী, তাঁর ছেলে ও আত্মীয়রা ঘটনাস্থলে যান।

শিক্ষার্থীর ভাই বলেন, তাঁর বোনকে পরিকল্পিতভাবে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, পুলিশ হত্যা মামলা না নিয়ে আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা নিয়েছে এবং অন্য আসামিদের গ্রেপ্তার করছে না। ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুব আলম বলেন, আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা হয়েছে এবং বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। হত্যা মামলা না নেওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পুলিশ ঝুলন্ত অবস্থায় মরদেহ উদ্ধার করেছে এবং ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুট পাওয়া গেছে; বাদী নিজেই লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন, তাই এজাহারে পরিবর্তনের সুযোগ নেই।