শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬

সাংবাদিক আলিফ হত্যা: প্রধান সন্দেহভাজন তাজুলের দুই সহযোগী সুনামগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার

নেত্রকোনার দুর্গাপুরে সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকির হত্যা মামলায় ইমরান ইসলাম ও সাব্বির আহম্মেদকে গ্রেপ্তারের পর মোট গ্রেপ্তার দাঁড়াল চারজনে।

নেত্রকোনার দুর্গাপুরে সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকির হত্যা মামলায় সন্দেহভাজন আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার (৩১ অক্টোবর) ভোরে সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ধনপুর বাজার এলাকা থেকে নেত্রকোনা জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) তাঁদের গ্রেপ্তার করে।

গ্রেপ্তার দুজন হলেন ইমরান ইসলাম ওরফে ইমন (২৪) ও মো. সাব্বির আহম্মেদ (২৫)। ইমরান দুর্গাপুর পৌরসভার মোক্তারপাড়া এলাকার এবং সাব্বির একই উপজেলার তেরিবাজার এলাকার বাসিন্দা।

নেত্রকোনার পুলিশ সুপার মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, গ্রেপ্তার দুজনকে নেত্রকোনায় এনে আদালতে পাঠানো হবে এবং তাঁদের রিমান্ডের আবেদন করা হবে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, তাঁরা হত্যা মামলার প্রধান সন্দেহভাজন তাজুল ইসলামের সহযোগী। হত্যাকাণ্ডে তাঁদের সম্পৃক্ততা আছে বলে ধারণা করছে পুলিশ।

দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার শাকের আহমেদ বলেন, তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ইমন ও সাব্বিরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করলে হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে আরও তথ্য পাওয়া যাবে বলে পুলিশ আশা করছে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, আলিফের ওপর আগে যে হামলা হয়েছিল, সেই ঘটনায় করা মামলার প্রধান আসামি ছিলেন ইমরান। হত্যা মামলার তদন্তেও তাঁর নাম উঠে এসেছে। ইমরান ও সাব্বিরের বিরুদ্ধে হত্যাসহ বিভিন্ন অপরাধের একাধিক মামলা রয়েছে।

এ নিয়ে আলিফ হত্যা মামলায় চারজন গ্রেপ্তার হলেন। এর আগে ১৮ অক্টোবর সাজিবুল ইসলাম ওরফে অপূর্বকে এবং ২০ অক্টোবর রাতে আশিকুর রহমান ওরফে প্রাঙ্গণকে গ্রেপ্তার করা হয়। আদালত তাঁদের দুজনকেই পুলিশ রিমান্ডে পাঠিয়েছিলেন।

১৫ অক্টোবর রাতে দুর্গাপুর উপজেলার শ্যামগঞ্জ-বিরিশিরি সড়কের উত্রাইল বাজার-সংলগ্ন তেলনজিয়া এলাকায় গুলিতে সাংবাদিক আলিফ নিহত হন। শনিবার দুপুরে হত্যার বিচারের দাবিতে নেত্রকোনা শহরে জেলা প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেছেন সাংবাদিকেরা। বক্তারা জড়িত সবাইকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান।