বুধবার, ০৭ অক্টোবর, ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক বাড়ায় ভারত থেকে পোশাকের ক্রয়াদেশ স্থগিত করল ওয়ালমার্ট, অ্যামাজনসহ বড় কিছু ব্র্যান্ড

যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক বাড়ায় ভারত থেকে পোশাকের ক্রয়াদেশ স্থগিত করল ওয়ালমার্ট, অ্যামাজনসহ বড়  কিছু ব্র্যান্ড
ছবি: ইন্টারনেট

যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ভারতীয় পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের প্রেক্ষিতে ওয়ালমার্ট, অ্যামাজন, গ্যাপ ও টার্গেটসহ মার্কিন কিছু ব্র্যান্ড ভারত থেকে তৈরি পোশাকের ক্রয়াদেশ স্থগিত করতে শুরু করেছে—যার ফলে কয়েক বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি ঝুঁকির মুখে পড়েছে ভারত।

অর্থনীতি ডেস্ক

ভারতীয় পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের পর দেশটির তৈরি পোশাক খাত বড় ধরনের বিপদের মুখে পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ওয়ালমার্ট, অ্যামাজন, গ্যাপ, টার্গেটসহ বড় খুচরা বিক্রেতা ব্র্যান্ডগুলো ভারতের রপ্তানিকারকদের দেওয়া পোশাকের ক্রয়াদেশ স্থগিত করতে শুরু করেছে।

এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, 'রাশিয়ার কাছ থেকে জ্বালানি তেল কেনার কারণে' মার্কিন প্রশাসন ভারতের ওপর ২৫ শতাংশ পাল্টা শুল্ক বসায়। এর পরই ভারতের রপ্তানিকারকেরা যুক্তরাষ্ট্রের ক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে ক্রয়াদেশ স্থগিত রাখার ই–মেইল পেতে শুরু করেন। এসব ই–মেইলে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সব অর্ডার স্থগিত রাখার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

শিল্পসূত্রের বরাত দিয়ে জানানো হয়, মার্কিন ব্র্যান্ডগুলো বাড়তি শুল্কজনিত ব্যয়ভার নিজেদের ওপর নিতে রাজি নয়। বরং এই ব্যয়ভার ভারতীয় রপ্তানিকারকদের ওপর চাপিয়ে দিতে চাইছে তারা। ফলে ভারত থেকে যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি পোশাক রপ্তানির খরচ ৩০–৩৫ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে। এতে করে ভারতের মোট রপ্তানি আদেশ ৪০–৫০ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস পেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সম্ভাব্য ক্ষতির পরিমাণ কয়েক বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত হতে পারে।

ভারতের ওয়েলস্পান লিভিং, গোকলদাস এক্সপোর্টস, ইন্দো কাউন্ট ও ট্রাইডেন্টের মতো বড় রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের মোট রপ্তানির ৪০–৭০ শতাংশ যুক্তরাষ্ট্রে করে থাকে। যুক্তরাষ্ট্রই ভারতের তৈরি পোশাক ও বস্ত্রের সবচেয়ে বড় বাজার।

প্রসঙ্গত, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ভারত বর্তমানে চতুর্থ বৃহত্তম তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক দেশ। গত বছর ভারত এই খাতে ৪৬৯ কোটি ডলারের রপ্তানি করেছে। ভারতের প্রধান প্রতিযোগী দেশ বাংলাদেশ ও ভিয়েতনাম—যাদের ওপর যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসন বর্তমানে ২০ শতাংশ করে পাল্টা শুল্ক আরোপ করেছে। ফলে ভারত থেকে স্থানান্তরিত ক্রয়াদেশ বাংলাদেশ ও ভিয়েতনামে যাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষিত নতুন শুল্ক অনুযায়ী, ভারতীয় পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ কার্যকর হয়েছে। এর মধ্যে ২৫ শতাংশ শুল্ক গতকাল বৃহস্পতিবার থেকে কার্যকর হয়েছে এবং বাকি ২৫ শতাংশ ২৮ আগস্ট থেকে কার্যকর হবে।

ভারতের বস্ত্র শিল্পের শীর্ষ সংগঠন ‘দ্য কনফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান টেক্সটাইল ইন্ডাস্ট্রি (সিআইটিআই)’ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, “৬ আগস্ট ঘোষিত নতুন শুল্ক ভারতের বস্ত্র ও পোশাক রপ্তানিকারকদের জন্য একটি বড় ধাক্কা। আমরা আগেই প্রতিকূল পরিবেশে ছিলাম, এই সিদ্ধান্ত পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলবে।”

তারা সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, এই সংকট মোকাবিলায় দ্রুত কার্যকর সহায়তা ও প্রণোদনা দেওয়ার।

শুধু বস্ত্র নয়, এই অতিরিক্ত ৫০ শতাংশ শুল্কের কারণে ভারতের চামড়া, রাসায়নিক, জুতা, রত্ন ও গয়না এবং চিংড়ি রপ্তানিখাতও বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন দেশটির অর্থনীতিবিদ ও শিল্পবিশেষজ্ঞরা।