গত সপ্তাহের সহিংস সংঘর্ষের পর ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থার মধ্যেই শনিবার (২৪ অক্টোবর) ইতালির বিভিন্ন শহরে হাজার হাজার মানুষ বিক্ষোভ করেছেন। রাজধানী রোমে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের দিকে মিছিল নিয়ে এগোনোর চেষ্টা করলে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘর্ষ হয়।
রোমে সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের পথ আটকে দেয় পুলিশ। কর্তৃপক্ষের বরাতে জানা গেছে, কিছু বিক্ষোভকারী বোতল, বিস্ফোরক ও আতশবাজি ছুড়লে নিরাপত্তা বাহিনী জলকামান ও লাঠি ব্যবহার করে। কর্তৃপক্ষ রোমে ২৮ জনকে প্রতিরোধমূলক আটকের কথা জানিয়েছে। সেদিন সকালে অতি ডানপন্থী কয়েকটি গোষ্ঠীও রাজধানীতে আলাদা বিক্ষোভ করে; তাদের প্রতিবাদ ছিল গত সপ্তাহে মিলানের বিক্ষোভে সৃষ্ট অস্থিরতার বিরুদ্ধে।
পুলিশ জানিয়েছে, সারা দেশে বিক্ষোভের ঘটনায় নয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ছাড়া ৩৭১ জনকে সাময়িকভাবে আটক করে আটটি শহরের থানায় নেওয়া হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ১১০ জন অপ্রাপ্তবয়স্ক। মিলানে কয়েক হাজার মানুষ মিছিল করেন, এতে শহরের কেন্দ্রস্থলে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। রোমেও একই সংখ্যক মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেন; সেখানে কয়েকজন বিক্ষোভকারী অল্প সময়ের জন্য কলোসিয়ামের ভেতরে ঢুকে পড়েন বলে জানা গেছে।
প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির ডানপন্থী সরকার এ সপ্তাহে কঠোর নিরাপত্তা-ব্যবস্থা অনুমোদন করেছে। বিক্ষোভের আগেই পুলিশ বিভিন্ন স্থানে কয়েক ডজন তল্লাশি ও গ্রেপ্তার অভিযান চালায়। গত সপ্তাহে মিলানের ফ্যাশনশিল্পের কেন্দ্রস্থলে লুটপাটের ঘটনা ঘটেছিল। এরপর সরকার শহরটিতে ৫০০ সেনা মোতায়েন করে। পাশাপাশি নতুন এক ডিক্রিতে অপ্রাপ্তবয়স্কদের আটক-সংক্রান্ত বিধিনিষেধ শিথিল করা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মাত্তেও পিয়ানতেদোসি বলেন, পুলিশ ভারসাম্য ও পেশাদারত্বের সঙ্গে সহিংসতায় জড়িত গোষ্ঠীগুলোকে বিচ্ছিন্ন ও নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ইতালিতে যারা মনে করে দায়মুক্তি নিয়ে কাজ করতে পারবে, তাদের কোনো জায়গা নেই।
মিলানের এক বিক্ষোভকারী বলেন, মিছিল করা তাঁদের অধিকার এবং তাঁদের কণ্ঠস্বর তুলে ধরতে হবে। নিরাপত্তা-উদ্বেগের কারণে মিলানে কয়েকটি দোকান আগেভাগে বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং কিছু দোকানের জানালা তক্তা দিয়ে ঢাকা হয়। শহরের মেয়র জিউসেপ্পে সালা আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান জানানোর পর কিছু প্রতিষ্ঠান খোলা ছিল।