সময়কে আমরা এতদিন ভেবেছি একটিমাত্র সরলরেখার মতো—অতীত থেকে বর্তমান হয়ে ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাওয়া একমাত্রিক প্রবাহ। কিন্তু আলাস্কা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ড. গুন্থার ক্লেটেটস্কা সময় নিয়ে এমন এক নতুন তত্ত্ব দিয়েছেন, যা প্রচলিত ধারণাকে আমূল বদলে দিতে পারে।
ড. ক্লেটেটস্কার গবেষণা অনুসারে, সময় নাকি আসলে তিন মাত্রিক—একইভাবে যেমন আমাদের চারপাশের স্থান বা স্পেস তিন মাত্রায় বিস্তৃত। অর্থাৎ মহাবিশ্বের প্রকৃত কাঠামো ছয় মাত্রিক: তিনটি সময়ের এবং তিনটি স্থানের।
নতুন দিগন্ত উন্মোচনের সম্ভাবনা
এই তত্ত্বের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হলো, এটি মৌলিক কণার ভর—যেমন ইলেকট্রন কিংবা কোয়ার্ক—সংক্রান্ত ভবিষ্যদ্বাণী করার ক্ষমতা রাখে। বর্তমান পদার্থবিজ্ঞান এখনো এই প্রশ্নের পূর্ণাঙ্গ উত্তর দিতে পারেনি। যদি এ তত্ত্ব পরীক্ষার মাধ্যমে সত্য প্রমাণিত হয়, তবে এটি কণাপদার্থবিজ্ঞানে এক যুগান্তকারী দিগন্ত উন্মোচন করবে।
সাধারণ আপেক্ষিকতা বনাম কোয়ান্টাম মেকানিক্স
পদার্থবিজ্ঞানের দুই প্রধান স্তম্ভ—আইনস্টাইনের সাধারণ আপেক্ষিকতা এবং কোয়ান্টাম মেকানিক্স—দীর্ঘদিন ধরেই একে অপরের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কোনো একক কাঠামোতে মেলেনি। কিন্তু ক্লেটেটস্কার এই তিন-মাত্রিক সময়তত্ত্ব নাকি এ দুয়ের মধ্যে সেতুবন্ধনের সুযোগ করে দিতে পারে।
তিনি দাবি করেছেন, তাঁর মডেল কার্যকারণ নীতি (causality) বজায় রাখবে, একই সঙ্গে বিকল্প টাইমলাইন বা সময়রেখার সম্ভাবনা তৈরি করবে। এমনকি বিভিন্ন টাইমলাইনের মধ্যে স্থানান্তরের সম্ভাবনাও এই কাঠামোর মধ্যে নিহিত।
"থিওরি অব এভরিথিং"-এর পথে?
বিজ্ঞানীরা দীর্ঘদিন ধরে যে "থিওরি অব এভরিথিং" বা "সর্বজনীন তত্ত্ব" খুঁজছেন—যেখানে মহাবিশ্বের সব শক্তি ও কণাকে একত্রিত করে একটি কাঠামোর মধ্যে ব্যাখ্যা করা সম্ভব হবে—এই নতুন দৃষ্টিভঙ্গি হয়তো সেই স্বপ্ন পূরণের দিকে এক বড় পদক্ষেপ হতে পারে।
ড. ক্লেটেটস্কার প্রবন্ধ “Three-Dimensional Time: A Mathematical Framework for Fundamental Physics” এ বিষয়ে বিস্তারিতভাবে প্রকাশিত হয়েছে Reports in Advances of Physical Sciences জার্নালের ২০২৫ সালের সর্বশেষ সংখ্যায়।
বিজ্ঞান মহল এখনো এ নিয়ে সতর্ক অবস্থানে থাকলেও আলোচনার ঝড় শুরু হয়ে গেছে। সত্যিই কি সময়ের একাধিক মাত্রা আছে? নাকি এটি কেবলই একটি গাণিতিক কল্পনা? উত্তর হয়তো ভবিষ্যতের গবেষণার হাতে।