ময়মনসিংহের ত্রিশাল সদর ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কেন্দ্রের দ্বিতল ভবন নির্মাণের ২০ বছর পেরিয়ে গেলেও সেখানে প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ হয়নি। ফলে প্রায় ৭৫ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত কেন্দ্রটি দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত পড়ে আছে। ভেতরে পাঁচ থেকে ছয় লাখ টাকার আসবাব ও বিভিন্ন চিকিৎসা সরঞ্জাম নষ্ট হচ্ছে, আর আশপাশের কয়েকটি গ্রামের হাজারো মানুষ প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০০৬ সালে স্থানীয় বাসিন্দা আবদুল আজিজ সরকার ও আফাজ উদ্দিন সরকারের দান করা সাড়ে ৩২ শতাংশ জমিতে ভবনটি নির্মাণ করা হয়। গ্রামের প্রান্তিক মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়াই ছিল উদ্দেশ্য। কিন্তু ভবন তৈরির পর জনবল না থাকায় কেন্দ্রের কার্যক্রম কখনোই চালু করা যায়নি।
ত্রিশাল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা জিয়াউল বারী বলেন, জনবল নিয়োগের জন্য স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে বেশ কয়েকবার লিখিত আবেদন করা হয়েছে, কিন্তু নিয়োগ হয়নি। ভবন সংস্কারের অভাবেও সেবা কিছুটা ব্যাহত হচ্ছে বলে তিনি জানান; সংস্কারের বরাদ্দ চেয়েও মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হয়েছে। ত্রিশাল থানা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মা ও শিশু স্বাস্থ্যবিষয়ক মেডিকেল অফিসার ডা. মাহমুদা ইসলাম দীপা বলেন, জনবলের অভাবে গ্রামের মা ও শিশুদের এখানে সেবা দেওয়া যাচ্ছে না; ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা নয়ামিয়া বলেন, প্রসববেদনা উঠলে তাঁর গর্ভবতী স্ত্রীকে উপজেলা সদর হাসপাতালে নেওয়ার পথে সন্তান প্রসব হয়ে যায়। তাঁর ভাষ্য, এলাকায় এমন ঘটনা আরও ঘটেছে এবং দ্রুত কেন্দ্রটি চালু করা দরকার। জমিদাতা আবদুল আজিজ সরকারের ছেলে সারোয়ার জাহান জুয়েল বলেন, গ্রামের মানুষের চিকিৎসার জন্যই তাঁর বাবা জমি দান করেছিলেন; জনবল না থাকায় সেই আশা পূরণ হচ্ছে না। তিনি উপরমহলের নজর কামনা করেন।