এটি রাষ্ট্রীয় বা জাতিসংঘ ঘোষিত কোনো দিবস নয়। যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার বিভিন্ন এলাকায় স্বেচ্ছায় গড়ে ওঠা একটি উদ্যোগ। বিশ্বজুড়ে বই উপহারের জন্য আলাদা যে ‘আন্তর্জাতিক বই উপহার দিবস’ পালিত হয়, তার তারিখ ১৪ ফেব্রুয়ারি।
শুরু এক লেখকের দরজা থেকে
উদ্যোগটির প্রতিষ্ঠান বুকস ফর ট্রিটসের ভাষ্য অনুযায়ী, ১৯৯৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার সান হোসের উইলো গ্লেন এলাকার বাসিন্দা লেখক রেবেকা মরগান হ্যালোইনে ক্যান্ডির একটি বিকল্প খুঁজছিলেন। তিনি চাইছিলেন এমন কিছু, যা সস্তা এবং যা শিশুদের কাছে বেশি দিন থাকবে।
স্থানীয় গ্রন্থাগারের বই বিক্রির আয়োজনে গিয়ে তিনি দেখেন, শিশুদের পুরোনো বইয়ের বাক্সের দাম প্রায় তাঁর ক্যান্ডির খরচের সমান। কয়েক ডজন বই কিনে তিনি সেগুলো শিশুদের শ্রেণি অনুযায়ী সাজান, একেবারে ছোটদের জন্য থেকে ষষ্ঠ শ্রেণি পর্যন্ত। দরজায় আসা শিশুরা নিজেদের বয়সের উপযোগী বই বেছে নিত। তাঁর নিজের সন্তান না থাকায় কোন বয়সে কোন বই মানায়, সেটিও তাঁকে শিখে নিতে হয়েছিল।
পাড়া থেকে দুই দেশে
ছয় বছর নিজের বাড়িতে এভাবে বই দেওয়ার পর ২০০১ সালে রেবেকা মরগান উদ্যোগটি নিয়ে যান পুরো এলাকার মানুষের কাছে। প্রতিষ্ঠানটি জানায়, সেই থেকে উইলো গ্লেনে প্রতিবছর সর্বোচ্চ ১০ হাজার বই শিশুদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। সংগঠনটির স্লোগান, ‘শিশুদের মগজের খোরাক দিন, দাঁতের পোকার নয়।’
বড় মোড় আসে ২০০৯ সালে। ‘লুয়ান’ কমিক স্ট্রিপের স্রষ্টা গ্রেগ ইভান্স সে সময় এক সপ্তাহের কাহিনিতে উদ্যোগটি যুক্ত করেন। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, এরপর হাজার হাজার মানুষ তাদের ওয়েবসাইটে গিয়ে আয়োজনের নির্দেশিকা নামিয়ে নেন। ২০১২ সালে কানাডার একটি প্রতিষ্ঠান দেশটিতে এই আয়োজনের দায়িত্ব নেয়। এখন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া, টেক্সাস, ইলিনয়, ম্যাসাচুসেটসসহ বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে এবং কানাডার ব্রিটিশ কলাম্বিয়া ও প্রিন্স এডওয়ার্ড আইল্যান্ডে আয়োজন হয়।
দিনটিতে যা করা হয়
- পরিবার ও পাড়ার মানুষ ভালো অবস্থায় থাকা পুরোনো বা নতুন শিশুতোষ বই সংগ্রহ করেন।
- বই বয়স বা শ্রেণি অনুযায়ী আলাদা করে রাখা হয়, যাতে শিশু নিজের উপযোগী বই বেছে নিতে পারে।
- কেউ বই দেন বাড়ির দরজায়, কেউ বই বা অর্থ দান করেন, কেউ এলাকায় নিজেরাই আয়োজন করেন।
দেশেও আছে বই উপহারের চর্চা
বাংলাদেশে দিনটি আনুষ্ঠানিকভাবে পালনের কোনো খবর পাওয়া যায়নি। তবে এই দিবসের সঙ্গে সম্পর্ক ছাড়াই চাঁদপুরের চর্যাপদ সাহিত্য একাডেমি প্রতিবছর অক্টোবরকে বই উপহার মাস হিসেবে পালন করে আসছে। স্থানীয় গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, ‘ছড়িয়ে দিতে বই, পথের মানুষ হই’ স্লোগানে এবারের ষষ্ঠ আয়োজন শুরু হয় ১ অক্টোবর এবং সমাপনী অনুষ্ঠান হয় গতকাল শুক্রবার চাঁদপুর প্রেসক্লাবে।
এ বছর এক হাজার বই উপহারের লক্ষ্যের প্রায় ৮০ শতাংশ পূরণ হয়েছে বলে আয়োজকেরা জানিয়েছেন। প্রতিষ্ঠার পর থেকে একাডেমিটি মোট ১৪ হাজারের বেশি বই উপহার দিয়েছে। কর্মসূচির লক্ষ্যের মধ্যে আছে বই পড়ায় উৎসাহ দেওয়া এবং মাদক ও বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরি করা।