কুমিল্লায় আত্মহত্যার চেষ্টায় বাধা দেওয়ায় যুবকের হাতে মা ও ভাতিজি নিহত
দেবিদ্বারে মাকে হত্যা ও ভাতিজির মৃত্যু নিয়ে ইমনের স্বীকারোক্তি আদালতে।
কুমিল্লার দেবিদ্বারে ২১ সেপ্টেম্বর ঘটে গেছে এক মর্মান্তিক ঘটনা। ইমন মিয়া তার মা পিয়ারা বেগম ও ছয় মাস বয়সী ভাতিজি ইসরাত জাহানকে হত্যা করেন। নিজের পঙ্গুত্ব, বেকারত্ব ও দারিদ্র্য থেকে মুক্তির চেষ্টা করার সময় তার মা ও ভাবি বাধা দিলে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে। ইমন আদালতে এ বিষয়ে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন।
জানা গেছে, ইমন মিয়া রোববার রাতে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন তবে মা পিয়ারা ও ভাবি রাবেয়া বেগম বাধা দেন। পরে সোমবার সকালে ধারালো দা হাতে নিয়ে মাকে হত্যা করতে গিয়ে ইসরাতকে আছাড় দিয়ে ফেলে দেন তিনি। ঘটনাস্থলেই পিয়ারা ও ইসরাতের মৃত্যু হয় ও রাবেয়া গুরুতর আহত হন।
ইমনের চিকিৎসা ও অস্ত্রোপচার চলার পরেও পায়ের যন্ত্রণা এবং পঙ্গুত্ব তাকে অতিষ্ঠ করেছিল। এ কারণে তিনি আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু এই চেষ্টার সময় তাকে বাধা দিলে মা ও ভাতিজিকে হত্যা করেন তিনি।
স্থানীয় জনতা ঘটনাস্থলে ইমনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন। পুলিশ এসে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং আলামত সংগ্রহ করে।
আদালতে ইমন মিয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন এবং সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালত-৪ এর বিচারক সায়মা শরীফ নিশাতের কাছে জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়। জবানবন্দি শেষে আদালত ইমনকে কুমিল্লা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয়। নিহতদের লাশ ময়নাতদন্ত শেষে তাদের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। রাবেয়া বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।