প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্কে থাকা অবস্থায় আপন শ্যালিকাকে বিয়ে করা নওগাঁর সেই যুবককে তালাকের নোটিশ দিয়েছেন তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী। বুধবার দুপুরে কাজীর কার্যালয়ে এই নোটিশ জারি হয়। বিকেলে ফেসবুক লাইভে এসে যুবক নিজেই বিষয়টি জানান।
এর আগে মঙ্গলবার ফেসবুক লাইভে এসে ওই যুবক সবার কাছে ক্ষমা চেয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, শ্যালিকাকে বিয়ে করা তাঁর ভুল হয়েছে এবং দুই স্ত্রীর একজনকে তালাক দেবেন, তবে কাকে দেবেন তা জানাননি। বুধবার বিকেলের লাইভে তিনি বলেন, ভুলের কারণে ইসলামের ওপর যে প্রভাব পড়েছিল তার সমাধান হয়েছে এবং দ্বিতীয় স্ত্রী তাঁকে ডিভোর্স দিয়েছেন। তিনি তালাকের নোটিশের একটি কপি নিজের ফেসবুক আইডিতে পোস্ট করেছেন। একসঙ্গে দুই বোনকে বিয়ে করা যায় না—ইসলামের এই বিধান তাঁর জানা ছিল না বলেও তিনি দাবি করেন।
নোটিশে স্বাক্ষর করা মুসলিম নিকাহ রেজিস্ট্রার ও কাজী সামিদুল ইসলাম জানান, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বাবাসহ ওই মেয়ে বুধবার দুপুরে তাঁর কার্যালয়ে আসেন। মেয়ে ও তাঁর অভিভাবকদের সম্মতিতে তালাকের নোটিশ জারি করা হয়েছে। নোটিশের একটি কপি স্বামীর কাছে এবং আরেকটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের কাছে যাবে। তালাক কার্যকর হবে তিন মাস পর।
ওই যুবক নওগাঁ সদর উপজেলার বাসিন্দা এবং আদালতের এক আইনজীবীর সহকারী। প্রথম স্ত্রীকে নিয়ে তিনি বদলগাছী উপজেলা সদরের একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন। ২৫ অক্টোবর সন্ধ্যায় তিনি প্রথম স্ত্রীর ছোট বোনকে বিয়ে করেন। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশের পর সমালোচনা শুরু হলে তিনি দাবি করেছিলেন, প্রথম স্ত্রীর সম্মতিতে এ বিয়ে হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনা জানাজানির পর বদলগাছীর ভাড়া বাসা ছেড়ে দিতে বলা হয়। এলাকাবাসীর ক্ষোভের মুখে সোমবার রাতে তাঁরা মহাদেবপুর উপজেলায় শ্বশুরবাড়িতে যান। যুবকের শ্বশুর জানান, ছোট মেয়ের বিয়ের বিষয়টি তিনি জানতেন এবং বড় মেয়েরও সম্মতি ছিল। একসঙ্গে দুই বোনকে বিয়ে করা যায় না, বিষয়টি তাঁরা জানতেন না বলে তিনি দাবি করেন। তাঁর ভাষ্য, ফেসবুকে জানাজানির পর এলাকার মানুষ ক্ষিপ্ত হয় এবং তাঁরা হেনস্তার শিকার হন। মঙ্গলবার বিকেলে সালিসে ছোট মেয়ে স্বামীকে তালাক দেওয়ার ঘোষণা দেন এবং এলাকার লোকজন তাঁর কাছ থেকে স্ট্যাম্পে সই নেন।