কৃষিপণ্য সংরক্ষণে গামা রশ্মি বিকিরণ প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে গামা ইরেডিয়েশন সেন্টার (জিআইসি) চালু করেছে বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিনা) আঞ্চলিক গবেষণাকেন্দ্র। শনিবার গাজীপুরের ভবানীপুরে কেন্দ্রটির উদ্বোধন করেন কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ।
বাংলাদেশ-চীন অংশীদারত্ব প্রকল্পের আওতায় নতুন কেন্দ্রটি তিন একর জমির ওপর গড়ে উঠেছে। এর সক্ষমতা ৫০০ কেসিআই, যা কোবাল্ট-৬০-এর তেজস্ক্রিয়তা ব্যবহার করে তৈরি। সংশ্লিষ্ট গবেষকদের মতে, কৃষিপণ্যের সংরক্ষণকাল বাড়ানো, ক্ষতিকর অণুজীব ও পোকামাকড় নিয়ন্ত্রণ এবং পণ্যের গুণগত মান ধরে রাখতে কেন্দ্রটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে কৃষিপণ্যের রপ্তানি বাড়াতে এটি একটি সময়োপযোগী উদ্যোগ। তাঁর মতে, মৌসুমে দেশে উৎপাদিত গাজর ও ক্যাপসিকামের মতো সবজি বেশি দিন সংরক্ষণ করা গেলে তা অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করবে। তিনি আরও জানান, বৈশ্বিক বাজারে আম, কাঁঠাল ও আনারসের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে এবং এই কেন্দ্রের মাধ্যমে দেশি এসব ফল আন্তর্জাতিক বাজারে পাঠানো সহজ হবে।
অনুষ্ঠানের এক বক্তা জানান, এই কেন্দ্র প্রতিবছর ৫৬ হাজার ৫০০ টন পণ্যের সংগ্রহোত্তর ক্ষতি কমাবে এবং এতে কমপক্ষে ৫৩ কোটি ৭০ লাখ টাকা সাশ্রয় হবে। তাঁর ভাষ্য, গামা রশ্মি প্রয়োগের মাধ্যমে আম ও কলার সংরক্ষণকাল ১০ থেকে ২১ দিন, পেঁয়াজ ও আলুর ছয় মাস এবং রসুনের ক্ষেত্রে ১২ মাস পর্যন্ত বাড়ানো সম্ভব।
গাজীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য এসএম রফিকুল ইসলাম বলেন, মেডিক্যাল সরঞ্জাম শতভাগ জীবাণুমুক্ত করার জন্যও এই কেন্দ্র সবচেয়ে ভালো উপায়; তাই কেন্দ্রটিকে বহুমুখীভাবে ব্যবহার করা উচিত। কৃষি সচিব মো. সেলিম খান বলেন, কেন্দ্রের গবেষণা ও সেবার সঙ্গে কৃষক, কৃষক সংগঠন, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকারী শিল্প উদ্যোক্তা ও রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানের মতো অংশীজনদের সম্পৃক্ত করতে হবে। অনুষ্ঠানে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) বাংলাদেশ প্রতিনিধিসহ আরও অনেকে বক্তব্য দেন।