ফিফা আসিয়ান কাপে অভিষেক: দেশের জন্য অবদান রাখতে চান সুখি ইতোফুসা
বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের জার্সিতে মাঠে নামার শৈশবের স্বপ্নপূরণের পর দলের জয়ে ভূমিকা রাখতে প্রস্তুত তরুণ ফরোয়ার্ড সুখি ইতোফুসা।
ফিফা আসিয়ান কাপে মালয়েশিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের জার্সিতে তরুণ ফরোয়ার্ড সুখি ইতোফুসার অভিষেক হয়েছে। শৈশবের স্বপ্নপূরণ করে জাতীয় দলের জার্সি পরে মাঠে নামতে পেরে তিনি অত্যন্ত আনন্দিত। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) জাকার্তায় অনুশীলনের ফাঁকে বাফুফের মিডিয়া বিভাগের মুখোমুখি হয়ে তিনি এসব কথা জানান।
সুখি বলেন, “ছোটবেলা থেকেই জাতীয় দলের জার্সি পরা এবং সেই জার্সিতে মাঠে খেলা আমার স্বপ্ন ছিল। সেই স্বপ্ন বাস্তবে পরিণত করতে পেরে আমি খুবই আনন্দিত। যদিও গতকালই অভিষেক হয়ে যাবে ভাবিনি, তবে দেশের জন্য লড়তে আমি প্রস্তুত ছিলাম।” স্বপ্নপূরণের পর এখন তার মূল লক্ষ্য হলো গোল ও অ্যাসিস্টের মাধ্যমে দলের জন্য বড় অবদান রাখা। এর জন্য তিনি তার ফিটনেস ও কন্ডিশন আরও উন্নত করতে কঠোর পরিশ্রম করতে চান।
২২ বছর বয়সী এই উইঙ্গার সতীর্থদের সহযোগিতায় দ্রুত মানিয়ে নিয়ে দলের জয়ে ভূমিকা রাখতে প্রস্তুত। তার সতীর্থরা সবসময় তার খেয়াল রাখে এবং তার সঙ্গে কথা বলে। যদিও সতীর্থদের কেউ জাপানিজ না জানলেও যোগাযোগের ক্ষেত্রে কোনো জটিলতা দেখছেন না সুখি। তিনি পরিবার থেকে দূরে থাকাটাকেও সমস্যা মনে করেন না, কারণ এটি তার ও তার পরিবারের স্বপ্ন। তিনি বিশ্বাস করেন, দূর থেকে সফলতা এনে দিতে পারলে তা পরিবারসহ দেশের অনেক মানুষের মুখে হাসি ফোটাবে।
সুখি ইতোফুসার জন্ম জাপানের সাইতামায়, ২০০৪ সালের ৩১ মার্চে। তার বাবা আতাউর রহমান বাংলাদেশের নারায়ণগঞ্জের অধিবাসী এবং মা শিযু ইতোফুসা একজন জাপানি নাগরিক। ৮ বছর বয়সে তিনি ঢাকার বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার একটি জাপানি স্কুলে এক বছর পড়াশোনা করেন। পরবর্তীতে টোকিওর একটি ভোকেশনাল স্কুল থেকে ক্রীড়া বিজ্ঞান ও মানবদেহ বিষয়ে অধ্যয়ন করেন। এরপর ইয়ামানাশির কাই শহরের জাপান এভিয়েশন হাই স্কুলে অধ্যয়নকালে হাইস্কুল ফুটবলে অংশ নেন।
আসিয়ান কাপে বাংলাদেশ তাদের দ্বিতীয় ম্যাচে আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে মাঠে নামবে।