শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬

রোহিঙ্গাদের ভোটার হওয়া ঠেকাতে ইউএনএইচসিআরের বায়োমেট্রিক তথ্যভান্ডার চায় ইসি, ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ

ভুয়া পরিচয়ে এনআইডি, জন্মনিবন্ধন ও পাসপোর্ট সংগ্রহের অভিযোগের মধ্যে ইসি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের আঙুলের ছাপের তথ্যভান্ডারে প্রবেশাধিকার চাইছে।

মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের একটি অংশ নির্ধারিত আশ্রয়শিবির ছেড়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছে। তাদের কেউ কেউ ভুয়া পরিচয় ও জাল কাগজপত্র ব্যবহার করে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি), জন্মনিবন্ধন ও পাসপোর্ট সংগ্রহের চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) প্রায় ১৩ কোটি নাগরিকের তথ্যভান্ডার ঝুঁকিতে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

সর্বশেষ গত সোমবার কক্সবাজার সদর উপজেলায় ভোটার হওয়ার আবেদন করতে গিয়ে দুই রোহিঙ্গা ধরা পড়ে; পরে তাদের পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। এর আগে রাজধানীর ধানমন্ডি থানা এলাকাতেও ভোটার হতে গিয়ে এক রোহিঙ্গা আটক হয়। ইসি কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, রোহিঙ্গারা দেশের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ায় তাদের শনাক্ত করা এবং ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তি ঠেকানো কঠিন হয়ে উঠছে।

এ পরিস্থিতিতে জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআরের কাছে সংরক্ষিত রোহিঙ্গাদের বায়োমেট্রিক তথ্যভান্ডার ব্যবহারের উদ্যোগ নিয়েছে ইসি। এই তথ্যভান্ডারের সঙ্গে ভোটার নিবন্ধনের সময় নেওয়া আঙুলের ছাপ মিলিয়ে দেখা গেলে আগে ভোটার হয়ে যাওয়া রোহিঙ্গাদের শনাক্ত করা এবং নতুন করে ভোটার হওয়া ঠেকানো সম্ভব হবে বলে কমিশন মনে করছে।

ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ জানান, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ইউএনএইচসিআরের তথ্যভান্ডারে প্রবেশাধিকার চাওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, তথ্যভান্ডার পাওয়া গেলে আগে ভোটার হওয়া রোহিঙ্গাদের শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।

ইসি সূত্রে জানা যায়, গত ৪ জুন শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের কার্যালয়, কক্সবাজারকে এবং ১০ জুন ইউএনএইচসিআরকে অনুরোধ জানানো হয়। জবাবে ১২ জুলাই ইউএনএইচসিআর জানায়, তথ্যভান্ডারের হালনাগাদ সংস্করণ প্রস্তুতের বিষয়টি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট বিভাগের মতামতের অপেক্ষায় রয়েছে। গত মাসে ইসি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিবকে চিঠি পাঠিয়ে আঙুলের ছাপ যাচাইয়ের জন্য সংযোগ স্থাপনের অনুরোধ করেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, রোহিঙ্গাদের তথ্যভান্ডার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে এবং তা বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলে সংরক্ষিত আছে।

ইসি সূত্র আরও জানায়, রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের ঝুঁকি বিবেচনায় কক্সবাজার, রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি ও চট্টগ্রামের ৩২টি উপজেলা বিশেষ নজরদারিতে রাখা হয়েছে। এসব এলাকায় ভোটার হতে হলে বিশেষ ফরম পূরণ করতে হয় এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নেতৃত্বে গঠিত বিশেষ কমিটি আবেদন যাচাই-বাছাই করে।