ঢাকার কেরানীগঞ্জের নেকরোজবাগ এলাকায় এসএস টয় কারখানায় সোমবারের অগ্নিকাণ্ডে নিহতের সংখ্যা দুজনে দাঁড়িয়েছে। আগুনের পর কারখানা থেকে সাকিব হাসান (১৮) নামের এক শ্রমিকের লাশ উদ্ধার করা হয়। দগ্ধ আরও দুই শ্রমিকের একজন, মানিক খান (৪০), সোমবার রাতে রাজধানীর জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন সুলতান মাহমুদ শিকদার মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করে জানান, মানিকের শরীরের শতভাগ পুড়ে গিয়েছিল। মানিক শরীয়তপুরের সখীপুর উপজেলার বাহাদুরপুর গ্রামের সেলিম খানের ছেলে। কর্মস্থলের পাশের একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন তিনি। তাঁর দুটি ছেলেসন্তান রয়েছে, একজনের বয়স পাঁচ মাস, অন্যজনের দুই বছর।
এ ঘটনায় সোমবার রাতে কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় মামলা করেন সাকিবের বড় ভাই রাকিব হোসেন। মামলায় এসএস টয় কারখানা ও আটতলা ভবনের মালিক শাহজাহান মজুমদারকে এক নম্বর আসামি করা হয়েছে; আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুহুল কুদ্দুছ বলেন, মামলা হয়েছে এবং আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। স্থানীয়ভাবে জানা গেছে, অগ্নিকাণ্ডের পর শাহজাহান মজুমদার এলাকা ছেড়ে চলে গেছেন।
নেকরোজবাগে মজুমদারের আটতলা ভবনে এসএস টয় কারখানা ও আমান প্লাস্টিক নামে আরেকটি খেলনা কারখানা রয়েছে। আগুনের পর থেকে কারখানা বন্ধ। মঙ্গলবার সকালে ভবনের সামনে কয়েকজন নারী শ্রমিককে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়; কারখানা কবে খুলবে, তা তাঁরা জানেন না। এক শ্রমিক জানান, মালিকপক্ষ আজ কাজ হবে না বলে জানিয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক নারী শ্রমিক জানান, তাঁরা সাত-আটজন কারখানার আটতলায় কাজ করতেন, যেখানে রং স্প্রে করে খেলনা তৈরি করতে হয়; সেখানেই আগুন লেগেছিল। শরিফা খাতুন নামের আরেক শ্রমিক বলেন, আগুন লাগার সঙ্গে সঙ্গে নিচে নেমে যাওয়ায় তিনি প্রাণে বেঁচেছেন। আমান প্লাস্টিকের নিরাপত্তাকর্মী জানান, মালিকপক্ষ অনির্দিষ্টকালের জন্য কারখানা বন্ধ রেখেছে।