জননিরাপত্তা জোরদার করতে চাঁদাবাজি, দস্যুতা ও ডাকাতির মতো গুরুতর অপরাধের বিচার দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে ‘দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল (সংশোধন) আইন, ২০২৬’-এর খসড়া জনমত যাচাইয়ের জন্য প্রকাশ করেছে সরকার।
সরকারি সূত্র জানায়, চাঁদাবাজি, ডাকাতি, দস্যুতা, ছিনতাই এবং আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধের মামলা নিষ্পত্তিতে দেরি হওয়ায় অপরাধ দমন কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, যা জননিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি। এ প্রেক্ষাপটে ‘দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল আইন, ২০০২’ যুগোপযোগী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ‘সচিবালয় নির্দেশমালা ২০২৪’-এর ২২৮ নম্বর অনুচ্ছেদ এবং ‘রুলস অব বিজনেস’-এর ৩১-এ বিধি অনুযায়ী খসড়াটি প্রকাশ করা হয়।
খসড়ার ১৬ ধারায় আসামি বা অপরাধ-সংশ্লিষ্ট অনলাইন বা ডিজিটাল কথোপকথন, যোগাযোগ, স্থিরচিত্র ও ভিডিও ফুটেজকে এই আইনের অধীন বিচারে ডিজিটাল সাক্ষ্য হিসেবে আইনগতভাবে গ্রহণযোগ্য করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
প্রস্তাবিত ৬ ধারায় মাদকসংক্রান্ত অপরাধের উল্লেখের পরিবর্তে দণ্ডবিধির ৩৮৪ থেকে ৩৮৯ ধারার অধীন চাঁদাবাজি এবং ৩৯২ থেকে ৪০২ ধারার অধীন দস্যুতা ও ডাকাতিকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি ‘আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ (দ্রুত বিচার) আইন, ২০০২’-এর ২(খ) ধারায় উল্লেখ করা অপরাধগুলোও এর আওতায় থাকবে।
খসড়ার ৩(ঙ) ধারায় বিশেষ আদালতের সংজ্ঞায় ‘বিশেষ ক্ষমতা আইন, ১৯৭৪’-এর অধীন বিশেষ ট্রাইব্যুনাল, ‘নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০’-এর অধীন ট্রাইব্যুনাল এবং ‘অ্যাসিড অপরাধ দমন আইন, ২০০২’-এর অধীন ট্রাইব্যুনালসহ আইনের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত অন্যান্য বিশেষ আদালতকে যুক্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া ৩ ধারায় ‘দণ্ডবিধি’ বলতে সুনির্দিষ্টভাবে ‘দণ্ডবিধি, ১৮৬০’ বোঝানো হয়েছে।
খসড়া নিয়ে কোনো আপত্তি, অভিযোগ বা পরামর্শ থাকলে প্রকাশের সাত দিনের মধ্যে জানাতে বলা হয়েছে। আইন ও বিচার বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব (বিচার শাখা-৪) বরাবর লিখিতভাবে বা বিভাগের নির্ধারিত ই-মেইল ঠিকানায় মতামত পাঠানো যাবে। বিভাগ জানিয়েছে, আগামী ১ নভেম্বরের পর এ বিষয়ে আর কোনো আপত্তি বা পরামর্শ গ্রহণ করা হবে না।