বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর, ২০২৬

গাজা নগরীতে ইসরায়েলের ভয়াবহ হামলা, নেতানিয়াহুর 'এখনই সরে যেতে' হুঁশিয়ারি

আবারও ধ্বংস করা হলো গাজার বহুতল ভবন; স্পেন ঘোষণা করল ইসরায়েলের ওপর পূর্ণ অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা

গাজা
ছবি: গাজা

গাজা নগরীতে ইসরায়েলি বাহিনীর ভয়াবহ বিমান হামলায় আবারও ধসে পড়েছে বহুতল ভবন, ফলে হাজারো মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু সতর্ক করে বলেছেন, “উত্তর গাজার অধিবাসীদের এখনই সরে যেতে হবে,” কারণ শিগগিরই তীব্র স্থল অভিযান শুরু হবে। অন্যদিকে, হামাস এই হুঁশিয়ারিকে বর্বরতা আখ্যা দিয়েছে এবং চলমান ধ্বংসযজ্ঞকে ‘নিষ্ঠুরতার ঘৃণ্য নিদর্শন’ বলে নিন্দা জানিয়েছে।

ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান সোমবার রাতে গাজা নগরীর একাধিক স্থানে হামলা চালায়। এর মধ্যে ধসে পড়েছে আস-সালাম টাওয়ার, যা স্থানীয়দের মতে গাজার অন্যতম প্রধান আবাসিক ভবন ছিল। এ ঘটনায় শত শত পরিবার রাতারাতি গৃহহীন হয়ে পড়েছে।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু মঙ্গলবার সকালে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেন,

“উত্তর গাজার বাসিন্দারা এখনই তাদের ঘরবাড়ি ছেড়ে চলে যান। আমাদের সামরিক অভিযান আরও তীব্র হবে।”

 

হামাস নেতানিয়াহুর বক্তব্যকে “স্যাডিজম ও অপরাধপ্রবণতার জঘন্য নিদর্শন” হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। তারা বলেছে, গাজা নগরীর বহুতল ধ্বংস ও নির্বিচার হত্যাযজ্ঞ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার লঙ্ঘনের সামিল।

 

এদিকে, স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ ঘোষণা দিয়েছেন যে দেশটি ইসরায়েলের ওপর পূর্ণ অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা জারি করছে। তিনি বলেন, এই সিদ্ধান্তের লক্ষ্য হলো—

“গাজায় গণহত্যা বন্ধ করা এবং ফিলিস্তিনি জনগণকে সমর্থন জানানো।”

 

গাজায় ইসরায়েলের অভিযানে এখন পর্যন্ত ৬৪ হাজার ৫২২ জন নিহত এবং ১ লাখ ৬৩ হাজার ৯৬ জন আহত হয়েছেন বলে ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য। বহু মানুষ এখনো ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে আছেন।

অন্যদিকে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামলায় ইসরায়েলে নিহত হন ১,১৩৯ জন এবং প্রায় ২০০ জনকে জিম্মি করা হয়।