রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬

ইথিওপিয়ায় জাতিগত সংঘর্ষ: প্রাণ বাঁচাতে কেনিয়ায় আশ্রয় নিয়েছেন ১৪ হাজারের বেশি মানুষ

পতাকা নিয়ে বিরোধ থেকে শুরু হওয়া লড়াইয়ে অন্তত ১২ জনের বেশি নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন মানবিক সহায়তা কর্মকর্তারা।

ইথিওপিয়ার দক্ষিণাঞ্চলে দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে প্রাণঘাতী সংঘর্ষের জেরে ১৪ হাজারের বেশি মানুষ সীমান্ত পেরিয়ে প্রতিবেশী কেনিয়ায় আশ্রয় নিয়েছেন। মানবিক সহায়তা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সংঘর্ষে অন্তত ১২ জনের বেশি নিহত হয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

কর্মকর্তারা শনিবার জানান, গত বুধবার সহিংসতা শুরুর পর বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা দ্রুত বেড়েছে। ভারী অস্ত্রের ব্যবহার অব্যাহত থাকায় অনেক বেসামরিক মানুষের কাছে কেনিয়াই এখন একমাত্র নিরাপদ আশ্রয়। স্থানীয় বাসিন্দারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছেন, সংঘাতের উভয় পক্ষ থেকেই ভারী গোলাগুলি ও শেল নিক্ষেপ চলছে।

কেনিয়ার রেড ক্রসের আপার ইস্টার্ন অঞ্চলের প্রধান মালিক আদান সাংবাদিকদের বলেন, আশ্রয় নেওয়া মানুষের জন্য জরুরি ভিত্তিতে খাদ্য ও পানি দরকার। এ ছাড়া ডায়রিয়াসহ পানিবাহিত রোগ ঠেকাতে স্বাস্থ্যসম্মত উপকরণ ও আরও শৌচাগার প্রয়োজন। সংস্থাটি জানায়, সীমান্তবর্তী ময়ালে শহরের ছয়টি অস্থায়ী শিবিরে ১০ হাজার ৯০০-এর বেশি বাস্তুচ্যুত মানুষ আছেন, আরও প্রায় ৪ হাজার মানুষ আত্মীয়স্বজন ও স্থানীয় পরিবারের সঙ্গে থাকছেন।

শুক্রবার মারসাবিত কাউন্টির কমিশনার স্ট্যানলি কামান্দে জানিয়েছিলেন, সহিংসতা শুরুর পর ২ হাজারের বেশি ইথিওপীয় কেনিয়ায় ঢুকেছেন। এক দিনের ব্যবধানে সংখ্যাটি অনেক বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতির অবনতি স্পষ্ট।

সংঘর্ষটি ইথিওপিয়ার দক্ষিণাঞ্চলের সীমান্ত এলাকায় বসবাসকারী ওরোমো ও সোমালি সম্প্রদায়ের মধ্যে। ওরোমিয়া প্রশাসনের অধীন একটি এলাকায় সোমালি আঞ্চলিক রাজ্যের পতাকা প্রদর্শনকে কেন্দ্র করে বিরোধের সূত্রপাত হয় বলে জানানো হয়েছে; দুটি অঞ্চলই ইথিওপিয়ার ফেডারেল অঞ্চল। কর্মকর্তারা জানান, শুক্রবার অন্তত নয়জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে, তবে লড়াই চলায় নিহতের সংখ্যা বাড়তে পারে।

কেনিয়ার রেড ক্রস বাস্তুচ্যুতদের মধ্যে তাঁবু, কম্বল, ঘুমানোর মাদুর ও অন্যান্য জরুরি সামগ্রী বিতরণ করেছে এবং শিশু ও স্তন্যদানকারী মায়েদের পুষ্টিসহায়তা দিচ্ছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ চাল ও শিমজাতীয় খাবারসহ অতিরিক্ত খাদ্যসহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তবে বাস্তুচ্যুতের সংখ্যা বাড়তে থাকায় বিদ্যমান সহায়তায় সবার প্রয়োজন মেটানো যাবে কি না, সে বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মানবিক সহায়তা কর্মকর্তারা।