বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬

মাছ, মাংস, দুধ ও ডিমের বাজারে অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধির অভিযোগ তদন্তের সুপারিশ সংসদীয় স্থায়ী কমিটির

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি মধ্যস্বত্বভোগীদের অতিরিক্ত মুনাফা ও কৃত্রিম সংকটের অভিযোগ যাচাইয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে তদারকির কথা বলেছে।

মাছ, মাংস, দুধ ও ডিমের বাজারে অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি, মধ্যস্বত্বভোগীদের অতিরিক্ত মুনাফা এবং কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির অভিযোগ তদন্তের সুপারিশ করেছে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে বাজারভিত্তিক তদন্ত ও তদারকি কার্যক্রম চালানোর কথা বলা হয়েছে।

বুধবার জাতীয় সংসদ ভবনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের এই কমিটির দ্বিতীয় বৈঠকে এসব সুপারিশ করা হয়। কমিটির সভাপতি খায়রুল কবির খোকনের সভাপতিত্বে বৈঠকে কমিটির সদস্য মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এমপি, শেখ মো. রেজাউল ইসলাম এমপি, অধ্যাপক নজরুল ইসলাম এমপি, এম এ হান্নান এমপি, আলী আজম মো. আবু বকর এমপি ও মো. আমির হামজা এমপি অংশ নেন। সভাপতির বিশেষ আমন্ত্রণে মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিনুর রশিদও বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

সংসদ সচিবালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বৈঠকে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে উৎপাদন বাড়ানো, ন্যায্যমূল্যে পণ্য সরবরাহ, ভোক্তা অধিকার প্রতিষ্ঠা, জলাশয়ে মাছের অভয়াশ্রম গড়ে তোলা এবং উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে খামারিদের সহায়তা কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। বাজার তদারকি জোরদার করার বিষয়েও আলোচনা হয়।

বাজারে মাছ, মাংস, দুধ ও ডিমের দাম অযৌক্তিকভাবে বাড়ছে কি না, সরবরাহ ব্যবস্থায় অনিয়ম আছে কি না এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের অতিরিক্ত মুনাফা বা কৃত্রিম সংকটের কারণে ভোক্তাদের বেশি দামে পণ্য কিনতে হচ্ছে কি না, তা যাচাইয়ের সুপারিশ করা হয়। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর সমন্বিত উদ্যোগের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

সামুদ্রিক মৎস্যসম্পদের সম্ভাবনা কাজে লাগানোর বিষয়েও বৈঠকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। সামুদ্রিক মৎস্য অনুসন্ধান ও আহরণ কার্যক্রম বাড়ানোর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের মাছের রপ্তানি বাড়াতে একটি সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা তৈরি করে পরবর্তী সময়ে কমিটির সামনে উপস্থাপনের সুপারিশ করা হয়েছে।

এ ছাড়া মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন অধিদপ্তর ও সংস্থাগুলোর চলমান নিয়োগ কার্যক্রমের অগ্রগতি পরবর্তী বৈঠকে তুলে ধরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ নির্ধারিত সময়ে শেষ করা এবং প্রকল্পের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার বিষয়েও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।