বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির প্রশাসনিক ভবনের ছয়তলার একটি কক্ষে পরিবার নিয়ে বসবাস করছেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের এক গাড়িচালক। বিষয়টি কর্তৃপক্ষের অজানা নয়। মহাপরিচালক কক্ষটি খালি করার নির্দেশ দিয়েছিলেন বলে জানা গেছে, তবু বসবাস অব্যাহত আছে। অথচ কে এই অনুমতি দিয়েছেন, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কেউ স্পষ্ট করে কিছু বলতে পারেননি।
গত ৫ নভেম্বর ওই কক্ষে বসবাসকারী নারীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তাঁরা তিন মাস ধরে সেখানে আছেন। তাঁর স্বামী শিউল বড়ুয়া নিজেকে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিবের গাড়িচালক হিসেবে পরিচয় দিয়ে বলেন, তিনি কোয়ার্টার চেয়েছেন, এখনো পাননি; শ্বশুর অসুস্থ হওয়ায় পুরো পরিবার ঢাকায় এসেছে, তাই তিন দিন আগে ভবনটিতে উঠেছেন। তাঁদের বক্তব্যে সময়কাল নিয়ে অসংগতি রয়েছে। একাডেমির প্রশাসন বিভাগের এক কর্মকর্তা বলেন, গত মার্চেও ওই দম্পতিকে সেখানে দেখা গেছে। মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক শাখা শিউল বড়ুয়ার পরিচয় নিশ্চিত করেছে। এ বিষয়ে জানতে সচিবকে ফোন করা হলেও তিনি ধরেননি।
একাডেমির বর্তমান ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) হারুন-অর-রশীদ বলেন, ডিসেম্বরে কোয়ার্টার পেয়ে চলে যাবেন, এই শর্তে চালককে কিছুদিন থাকতে দেওয়া হয়েছে; তবে তিনি যে পরিবার নিয়ে থাকছেন, তা তাঁর জানা ছিল না। পুরো ভবনটি তাঁরা এখনো বুঝে পাননি বলেও জানান তিনি। অনুমতির সিদ্ধান্ত তিনি নিজে নিয়েছেন কি না, তা স্পষ্ট করেননি।
প্রশাসন বিভাগের উপপরিচালক (চলতি দায়িত্ব) পূর্ণলাক্ষ চাকমা বিষয়টি আগে থেকেই জানতেন বলে নিশ্চিত করেন। তাঁর ভাষ্য, কোনো লিখিত আবেদন ছাড়া মৌখিক অনুমতিতে ‘মানবিক কারণে’ তিনি সেখানে থাকেন এবং কোয়ার্টার পেলেই চলে যাবেন। কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমানও মানবিক কারণের কথা বলেন; তবে থাকতে দেওয়ার সিদ্ধান্ত কে নিয়েছেন বা ইউনিয়নের এ ধরনের অনুমতির এখতিয়ার আছে কি না, তা জানাননি।
একাডেমির এক কর্মকর্তা দাবি করেন, ঘটনায় কর্মচারী ইউনিয়ন ও কিছু কর্মকর্তা জড়িত, যদিও তিনি নির্দিষ্ট কারও নাম বলেননি। গত ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মহাপরিচালক থাকা কবি রেজাউদ্দিন স্টালিন বলেন, কেউ সেখানে বসবাস করেন, তা তাঁর জানা ছিল না; জানা থাকলে মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কথা বলে ব্যবস্থা নিতেন।