বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬

হাওর, বাঁওড়, নদী ও সমুদ্রে মাছের অভয়াশ্রম গড়বে সরকার, দেশি মাছের প্রজননক্ষেত্র রক্ষায় গবেষণা জোরদারের নির্দেশ

বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলে মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের কর্মশালায় মন্ত্রী বলেছেন, প্রাকৃতিক মাছের প্রজননক্ষেত্র সংকটে পড়ায় বড় বাজেট ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।

প্রাকৃতিক জলাশয়ে দেশি মাছের উৎপাদন বাড়ানো, প্রজননক্ষেত্র রক্ষা এবং হারিয়ে যাওয়া প্রজাতি ফিরিয়ে আনতে হাওর, বাঁওড়, নদীনালা ও সমুদ্রে মাছের অভয়াশ্রম গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। জলবায়ু পরিবর্তন, জলাশয় দূষণ ও মানুষের অসচেতনতার কারণে প্রাকৃতিক মাছের প্রজননক্ষেত্র সংকটের মুখে পড়ায় এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে মাছের জাত উন্নয়ন, রোগ প্রতিরোধ, মানসম্মত পোনা উৎপাদন ও নিরাপদ মাছ চাষে গবেষণা জোরদারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বুধবার বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলে (বিএআরসি) বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএফআরআই) আয়োজনে ‘বার্ষিক গবেষণা অগ্রগতি পর্যালোচনা (২০২৫-২৬) ও পরিকল্পনা প্রণয়ন (২০২৬-২৭)’ শীর্ষক কর্মশালায় এসব তথ্য উঠে আসে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি নির্দেশনায় চলতি বছর থেকেই এ সংকট মোকাবিলায় বড় বাজেট ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে সরকার এগোচ্ছে। মাছ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা ধরে রাখার পাশাপাশি প্রাকৃতিক উৎস থেকে উৎপাদন বাড়ানো এবং রপ্তানির সম্ভাবনা কাজে লাগাতে চায় সরকার। তবে রপ্তানির ক্ষেত্রে গুণগত মানের সঙ্গে কোনো আপস করা হবে না বলে তিনি জানান।

মন্ত্রী বলেন, অতীতে ভালো গবেষণার ফলেই বাংলাদেশ মাছ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে এবং চাষের মাছের উৎপাদন, গুণগত মান ও খাদ্য ব্যবস্থাপনায় ব্যাপক উন্নতি হয়েছে। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তন ও মানুষের অসচেতনতার কারণে প্রাকৃতিক মাছের প্রজননক্ষেত্রগুলো ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে। গবেষক ও বিজ্ঞানীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, দেশি মাছের প্রজনন, জাত উন্নয়ন এবং হারিয়ে যাওয়া প্রজাতি পুনরুদ্ধারে গবেষণা জোরদার করতে হবে। উপকূলীয় ও সামুদ্রিক মৎস্যসম্পদের বিপুল সম্ভাবনাও কাজে লাগাতে হবে। ক্ষতিকর জালের ব্যবহার বন্ধে শুধু আইন প্রয়োগের ওপর নির্ভর না করে মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি। মাছের খাদ্যে মানবদেহের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ উপাদান ব্যবহার থেকে বিরত থাকার ওপরও জোর দেন মন্ত্রী।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, মাছের স্বাদ ও গুণগত মান অনেকাংশে পানির মানের ওপর নির্ভর করে। তাই উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি জলাশয়ের দূষণ রোধ করতে হবে। নদী ও খাল খননের মাধ্যমে পানিপ্রবাহ বাড়ানো এবং জলাবদ্ধতা কমানো গেলে মাছের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

বিএফআরআইয়ের মহাপরিচালক ড. মো. লতিফুল ইসলামের সভাপতিত্বে কর্মশালায় আরও বক্তব্য দেন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন, বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো. মীর হোসেন, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শাহজামান খান এবং বিএআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. মো. আবদুছ ছালাম। কর্মশালায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিজ্ঞানী ও জেলে প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।