যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল আবার হামলা চালালে উপসাগরীয় অঞ্চলের সাতটি দেশে মার্কিন-সংশ্লিষ্ট জ্বালানি স্থাপনা, ডেটা সেন্টার ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে বলে হুঁশিয়ার করেছেন ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা মোহসেন রেজায়ি। একই সময়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, ইরানে আরও হামলা হতে পারে। তুরস্কের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ড ও বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সি এসব তথ্য জানিয়েছে।
টিআরটি ওয়ার্ল্ড রেজায়িকে ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব হিসেবে উল্লেখ করেছে। সম্প্রচারমাধ্যমটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রেস টিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি ‘কোনো রেড লাইন না রাখার’ কৌশলের কথা বলেন। তাঁর যুক্তি, এ অঞ্চলে মার্কিন অর্থনীতির শক্তির বড় অংশ উপসাগরের ওপর নির্ভরশীল, বিশেষ করে ডেটা সেন্টার ও এআই খাতে যুক্তরাষ্ট্রের বিপুল বিনিয়োগ রয়েছে। রেজায়ির দাবি, লড়াই আবার শুরু হলে এ অঞ্চলে দুই ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি মূল্যের মার্কিন-সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তি অবকাঠামো ঝুঁকিতে পড়বে। তবে এসব স্থাপনা এখনো ইরানের লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় রাখা হয়নি বলে জানান তিনি; যদিও যুদ্ধ বাধলে এর অনেকগুলোই ধ্বংস হবে বলে সতর্ক করেন। কোন সাতটি দেশের কথা বলা হয়েছে, টিআরটির প্রতিবেদনে তা উল্লেখ নেই।
ড্রপ সাইট নামের একটি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া আলাদা সাক্ষাৎকারে রেজায়ি বলেন, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ইরান সাতটি শর্ত জানিয়েছে; সেগুলো পূরণ না হলে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া বা আলোচনায় ফেরা হবে না। সংঘাত চলতে থাকলে বিশ্ব জ্বালানিবাজার তিন বছর পর্যন্ত স্থিতিশীল না-ও হতে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
‘আরও একটু এগোতে পারি’: ট্রাম্প
আনাদোলু জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার আইওয়ায় নির্বাচনী সমাবেশে যাওয়ার আগে হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে প্রচণ্ড আঘাত করেছে এবং ‘হয়তো আরও একটু এগোতে পারে’। যুদ্ধ নিয়ে জনমত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কেউ এটি পছন্দ করছেন, কেউ হয়তো করছেন না; এর একটা মূল্য দিতে হচ্ছে, যা তিনি শুরুতেই বুঝেছিলেন। তবে ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী হতে দেওয়া যায় না বলে মন্তব্য করেন তিনি। টিআরটির ভাষ্যে, ট্রাম্প আরও বলেছেন, আগের প্রেসিডেন্টদেরই অনেক আগে এ কাজ করা উচিত ছিল। এর আগের দিন ট্রাম্প বলেছিলেন, ইরানের সঙ্গে কোনো আলোচনা চলছে না এবং শিগগিরই ‘কোনো না কোনো কিছু’ ঘটবে।
প্রেক্ষাপট
আনাদোলুর তথ্য অনুযায়ী, ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা শুরু করে। জবাবে ইরান অঞ্চলজুড়ে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায় এবং বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ করে দেয়। জুনে সই হওয়া একটি সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে চূড়ান্ত শান্তিচুক্তির পথ খোঁজা হলেও প্রণালিতে চলাচলসহ নানা প্রশ্নে মতভেদে তা ভেস্তে যায়।
টিআরটি জানিয়েছে, যুদ্ধ এখন অষ্টম মাসে গড়িয়েছে এবং থেমে থেমে হামলা চলছে। নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এ যুদ্ধ মার্কিন ভোটারদের বিভক্ত করেছে; অক্টোবরের কয়েকটি জরিপে ট্রাম্পের প্রতি সমর্থন ৩০ থেকে ৩৬ শতাংশের মধ্যে দেখা গেছে বলে উল্লেখ করেছে সম্প্রচারমাধ্যমটি।