সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬

নাইজারে সেনা পাঠানোর প্রস্তাব অনুমোদন আলজেরিয়ার উচ্চকক্ষে, ১৯৭৩ সালের পর প্রথম বিদেশে সামরিক মোতায়েন

জ্বালানি স্থাপনা রক্ষায় ১৭৪ আসনের কাউন্সিল অব দ্য নেশনের ১৪৮ জন সেনা পাঠানোর পক্ষে ভোট দিয়েছেন বলে এক সিনেটরের বরাতে জানা গেছে; নিম্নকক্ষের ভোট বাকি।

আলজেরিয়ার সংসদের উচ্চকক্ষ প্রতিবেশী নাইজারে সেনা মোতায়েনের একটি প্রস্তাব অনুমোদন করেছে। প্রস্তাবে বলা হয়েছে, সেনারা নাইজারে ‘জ্বালানি স্থাপনা রক্ষা’ করবে। এটি বাস্তবায়িত হলে ১৯৭৩ সালের আরব-ইসরায়েল যুদ্ধে মিসরকে সহায়তায় সেনা পাঠানোর পর আলজেরিয়ার প্রথম বিদেশে সামরিক মোতায়েন হবে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক সিনেটর জানিয়েছেন, রোববার ১৭৪ আসনের কাউন্সিল অব দ্য নেশনের ১৪৮ জন সদস্য প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিয়েছেন। নিম্নকক্ষের একই দিন পরে প্রস্তাবটি নিয়ে ভোট দেওয়ার কথা ছিল এবং সেখানেও তা অনুমোদিত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি বলে ধারণা করা হচ্ছিল। নিম্নকক্ষের ভোটের ফল এই প্রতিবেদন তৈরির সময় জানা যায়নি।

আলজেরিয়া ও নাইজারের মধ্যে ৯৬০ কিলোমিটার দীর্ঘ মরুভূমি সীমান্ত রয়েছে। চলতি বছরের শুরুতে টানাপোড়েন কাটিয়ে দুই দেশ নিরাপত্তা সম্পর্ক জোরদার করেছে। আগস্টে নাইজারে একটি ব্যর্থ সামরিক বিদ্রোহের চেষ্টার পর সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হয়। নাইজারে সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলা চলছে, আলজেরিয়ার সীমান্ত-সংলগ্ন এলাকাতেও। জিহাদি সহিংসতা, সীমান্তপারের অপরাধ ও চোরাচালানের বিরুদ্ধে সহযোগিতা বাড়াতে দুই দেশ সম্মত হয়েছে।

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ে গবেষক আবদেল্লা আকির বলেন, এই সিদ্ধান্ত সীমান্তের বাইরে সামরিক সংঘাতে অংশ না নেওয়ার আলজেরিয়ার নীতির সঙ্গে ‘ঐতিহাসিক বিচ্ছেদ’। সাহেল অঞ্চলে দেশটির কৌশলগত গভীরতা রক্ষা এবং ভবিষ্যৎ ট্রান্স-সাহারা গ্যাস পাইপলাইন নিরাপদ রাখার প্রয়োজন থেকেই এই পদক্ষেপ। নাইজেরিয়া থেকে নাইজার হয়ে ইউরোপে প্রাকৃতিক গ্যাস রপ্তানির এই বিশাল প্রকল্পে দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করছে। আকিরের মতে, মরক্কো ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ প্রতিদ্বন্দ্বী পক্ষগুলোকেও কড়া বার্তা দেওয়ার চেষ্টা আছে এ সিদ্ধান্তে; এই দুই দেশের সঙ্গে আলজেরিয়ার এখন কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই।

উত্তর আফ্রিকাবিষয়ক ঝুঁকি বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান নর্থ আফ্রিকা রিস্ক কনসাল্টিংয়ের বিশ্লেষক জিওফ পোর্টার বলেন, এটি আলজেরিয়ার নীতির পরিবর্তনের ইঙ্গিত। তাঁর ভাষ্য, দেশটি আগে সংলাপ, আন্তর্জাতিক আইন ও বহুপক্ষীয় ফোরামের মতো প্রচলিত পথে নিজের স্বার্থ ও আঞ্চলিক প্রভাব ধরে রাখতে চেয়েছে। কিন্তু বহুমেরুকেন্দ্রিক ও লেনদেননির্ভর বিশ্বে সেগুলো আর কাজ করছে না; তাই আলজেরিয়া এখন সরাসরি উপস্থিতির দিকে ঝুঁকছে। তবু তিনি বলেন, আলজেরিয়া এখনো তার পররাষ্ট্রনীতির মূল নীতিগুলোর প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ।