ডেঙ্গু প্রতিরোধে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের তিন মাসব্যাপী বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু
রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা, লার্ভিসাইড ও ফগার স্প্রে কার্যক্রম শুরু করেছে।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন (রাসিক) একটি তিন মাসব্যাপী বিশেষ পরিচ্ছন্নতা, লার্ভিসাইড ও ফগার স্প্রে কার্যক্রম শুরু করেছে। শনিবার বিকেলে নগরীর চন্দ্র্র্রিমা আবাসিক এলাকা ও টিঅ্যান্ডটি কলোনিতে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন রাসিকের প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান রিটন। এরপর রেলগেট এলাকায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করা হয়।
মো. মাহফুজুর রহমান রিটন জানান, এই তিন মাসব্যাপী কর্মসূচির আওতায় নগরীর প্রতিটি ওয়ার্ডে পরিচ্ছন্নতা, ঝোপঝাড় পরিষ্কার, ড্রেনে লার্ভিসাইড ও ফগার স্প্রে এবং জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, শুধু সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে ডেঙ্গু প্রতিরোধ সম্ভব নয়; এর জন্য নগরবাসীর সচেতনতা ও সহযোগিতা প্রয়োজন। নগরবাসীকে ঘর, আঙিনা ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার এবং কোথাও পানি জমতে না দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। রিটন আরও বলেন, রাজশাহীকে সুন্দর, সবুজ ও স্বাস্থ্যকর নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে বিভিন্ন কার্যক্রম চলছে, যার অংশ হিসেবে নগরীতে ২ লাখ ৫০ হাজার বৃক্ষরোপণ কার্যক্রমও চলমান রয়েছে। এ সময় রাসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল করিম, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী খায়রুল বাকের, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. ফাম আনজুমান আরা বেগমসহ অন্যান্য কর্মকর্তা ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গুতে ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে চলতি মাসের প্রথম ২৫ দিনেই ৮ জনের মৃত্যু হয়, যা মোট মৃত্যুর ৬১ শতাংশের বেশি। রামেক হাসপাতালের মুখপাত্র ডা. শেখ শামীম আহমেদ জানান, জানুয়ারিতে ২ জন, জুনে ১ জন, আগস্টে ২ জন এবং সেপ্টেম্বরে সর্বোচ্চ ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের মধ্যে ৫ জন চাঁপাইনবাবগঞ্জের, ৪ জন রাজশাহীর, ২ জন কুষ্টিয়ার এবং পাবনা ও নাটোরের একজন করে। মৃতদের মধ্যে ১১ জন প্রাপ্তবয়স্ক ও ২ জন শিশু; ৯ জন পুরুষ এবং ৪ জন নারী।
ডা. শেখ শামীম আহমেদ আরও জানান, শনিবার সকাল ৯টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় ২৮ জন নতুন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। একই সময়ে ১৬ জন রোগী চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন। বর্তমানে ৯৮ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। এ বছর ডেঙ্গু রোগীর মোট ভর্তি সংখ্যা ৯২৯।
অন্যদিকে, ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবাইকে নিজ নিজ বাড়ি ও আশপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে এবং মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল ধ্বংস করতে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন রাজশাহীর জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম। শনিবার সকালে পবা উপজেলার কাটাখালী পৌরসভা এলাকায় জাতীয় ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান কর্মসূচির অংশ হিসেবে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এই আহ্বান জানান। জেলা প্রশাসক বলেন, “রোগ প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধই গুরুত্বপূর্ণ।” তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, সরকারি-বেসরকারি সংস্থা, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষকে সম্মিলিতভাবে কাজ করে জমে থাকা পানি অপসারণ করতে হবে এবং এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করতে হবে। পরে জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে সম্ভাব্য প্রজননস্থল চিহ্নিত করে পানি অপসারণ ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালানো হয়।