বুধবার, ০৪ নভেম্বর, ২০২৬

নলডাঙ্গায় দেড় কোটি টাকার স্বর্ণ ও অর্থ নিয়ে উধাওয়ের অভিযোগ: স্বর্ণ ব্যবসায়ী দম্পতির বিচার চেয়ে ভুক্তভোগীদের মানববন্ধন

নাটোরের নলডাঙ্গা পৌর বাজারে স্বর্ণ ব্যবসায়ী ও তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে প্রায় দেড় কোটি টাকার স্বর্ণালংকার ও অর্থ নিয়ে আত্মগোপনের অভিযোগ তুলে মানববন্ধন করেছেন ভুক্তভোগীরা।

নাটোরের নলডাঙ্গা পৌর বাজারে প্রায় দেড় কোটি টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে উধাও হওয়ার অভিযোগে এক স্বর্ণ ব্যবসায়ী ও তাঁর স্ত্রীর বিচার দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা। বুধবার (৪ নভেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টায় নলডাঙ্গা থানা মোড়ে এ উপলক্ষে মানববন্ধন হয়। এতে প্রতারণার শিকার ব্যক্তি ও বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার কর্মীরা অংশ নেন।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, তন্নী জুয়েলার্সের স্বত্বাধিকারী নিমাই চন্দ্র তামেলী ও তাঁর স্ত্রী চন্দনা রানী বিভিন্ন সময়ে তাঁদের কাছ থেকে প্রায় দেড় কোটি টাকার স্বর্ণালংকার ও অর্থ নিয়ে আত্মগোপন করেছেন। অনেকে বেসরকারি সংস্থা থেকে ঋণ নিয়ে স্বর্ণালংকার কিনে অভিযুক্তদের কাছে দিয়েছিলেন। এখন ঋণের কিস্তি পরিশোধের চাপে তাঁরা চরম বিপাকে পড়েছেন। মানববন্ধনে অংশ নেওয়া এক বেসরকারি সংস্থার কর্মী জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তি তাঁদের প্রতিষ্ঠান থেকেও বিপুল টাকা ঋণ নিয়ে আত্মগোপন করেছেন।

ভুক্তভোগীরা জানান, নিমাই চন্দ্র তামেলীর বাড়ি পাবনার আমিনপুর থানার জাতসাখিনী ইউনিয়নের নাটিয়াবাড়ী এলাকায়। তাঁরা অভিযুক্ত দম্পতিকে দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। এ ছাড়া তাঁদের সন্ধান বা আটকে সহায়তা করতে পারলে উপযুক্ত পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণাও দেন তাঁরা।

নলডাঙ্গার কুটুরীপাড়া এলাকার শহিদুল ইসলাম (৩৮) জানান, তিনি বাদী হয়ে নাটোরের আমলি আদালত ও পাবনার আমিনপুর থানায় পৃথক মামলা করেছেন। মামলার অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেছেন, স্বর্ণ ব্যবসার সূত্রে পরিচয়ের পর বিশ্বাস অর্জন করে তাঁর কাছ থেকে ৩৫ লাখ টাকা নেওয়া হয়। টাকা ফেরত চাইলে টালবাহানা করা হয়। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, গত ২১ অক্টোবর সন্ধ্যা ৭টার দিকে পাওনা টাকা চাইতে অভিযুক্তদের বাড়িতে গেলে তাঁকে ও সঙ্গের লোকজনকে গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। এ ঘটনায় নিমাই চন্দ্র তামেলীসহ পাঁচজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যবসায়ী বা তাঁর পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি; তাঁদের ভাড়া বাসা ও দোকান তালাবদ্ধ ছিল। নলডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনোয়ার জাহান বলেন, তিনি বিষয়টি মৌখিকভাবে জেনেছেন, তবে লিখিত অভিযোগ পাননি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।