বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬

চৌদ্দগ্রামে মায়ের কাছ থেকে নিয়ে বিক্রি করা নবজাতক চার ঘণ্টায় উদ্ধার, গ্রেপ্তার ৪; দুটি মামলা

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে হাসপাতাল থেকে জোর করে নিয়ে যাওয়া নবজাতককে চার ঘণ্টার অভিযানে উদ্ধার করে মায়ের কোলে ফিরিয়ে দিয়েছে পুলিশ।

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে ধর্ষণের শিকার এক তরুণীর নবজাতককে জন্মের পরপরই হাসপাতাল থেকে নিয়ে বিক্রির ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার রাতে অভিযান চালিয়ে চার ঘণ্টার মধ্যে নবজাতককে উদ্ধার করে মায়ের কোলে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

কুমিল্লা জেলা পুলিশের মিডিয়া কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান সোমবার রাতে জানান, গত শুক্রবার চৌদ্দগ্রামের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ওই তরুণী ছেলেসন্তানের জন্ম দেন। সেদিনই ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত যুবকের স্বজনসহ কয়েকজন নবজাতককে মায়ের কাছ থেকে জোর করে নিয়ে যান। রোববার রাতে বিষয়টি জানতে পেরে ডিবি ও চৌদ্দগ্রাম থানা-পুলিশ অভিযান চালিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করে।

গ্রেপ্তার চারজন হলেন ধর্ষণে অভিযুক্ত যুবকের মা ও চাচা, হাসপাতালের একজন নার্স এবং নবজাতক কেনার সঙ্গে জড়িত একজন। চৌদ্দগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আরিফ হোছাইন জানান, তাঁদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

লুৎফর রহমান বলেন, প্রথমে ধারণা করা হয়েছিল ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে নবজাতককে কারও কাছে দত্তক দেওয়া হয়েছে। তবে উদ্ধারের সময় এক শ টাকার একটি নন-জুডিসিয়াল স্ট্যাম্প পাওয়া যায়, যেখানে দেড় লাখ টাকার বিনিময়ে শিশুটিকে অন্যত্র হস্তান্তরের কথা উল্লেখ আছে। এ কারণে মানব পাচার প্রতিরোধ আইনে মামলা করা হয়েছে।

তরুণীর পরিবারের অভিযোগ, গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর অসুস্থ নানির চিকিৎসার জন্য তরুণীর মা ঢাকায় গেলে নিজ বাড়িতে তিনি ধর্ষণের শিকার হন; পরে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন। বিষয়টি অভিযুক্ত যুবকের পরিবারকে জানানোর পর ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা হয় বলে তাঁদের অভিযোগ। স্থানীয়ভাবে সালিস বসে এবং অভিযুক্ত পক্ষ তিন লাখ টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানালে তরুণীর পরিবার তা প্রত্যাখ্যান করে। পুলিশ সূত্র বলছে, নবজাতককে হাসপাতাল থেকে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির একজন নার্স, দুজন ব্যবস্থাপকসহ কয়েকজনের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে; বিক্রির সঙ্গে আর কারা জড়িত, তা তদন্ত হচ্ছে।

সোমবার ধর্ষণ, নির্যাতন ও ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে চৌদ্দগ্রাম থানায় একটি মামলা হয়েছে, যার বাদী ভুক্তভোগী তরুণী। এতে অভিযুক্ত যুবক, তাঁর মা ও চাচা এবং স্থানীয় এক মাতবরকে আসামি করা হয়েছে। নবজাতক বিক্রির অভিযোগে থানার উপপরিদর্শক সাইফুর রহমান মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনে আরেকটি মামলা করেছেন, যাতে ধর্ষণে অভিযুক্ত যুবককে প্রধান আসামি করে আটজনের নাম এবং অজ্ঞাতনামা ১০ জনসহ মোট ১৮ জনকে আসামি করা হয়েছে। ওসি জানান, প্রধান অভিযুক্তসহ বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।