মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬

আমার দেশের ছাপাখানার ফটকে বোমা নিক্ষেপ: সম্পাদক পরিষদ, সাংবাদিক ইউনিয়ন ও জামায়াতের নিন্দা, অপরাধীদের গ্রেপ্তারের দাবি

তেজগাঁওয়ে রোববার রাতে দৈনিক আমার দেশের প্রেসের ফটক লক্ষ্য করে বোমা ছোড়ার ঘটনায় নিরাপত্তাকর্মী আহত হয়েছেন; বিভিন্ন সংগঠন জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করতে বলেছে।

রাজধানীর তেজগাঁওয়ে দৈনিক আমার দেশের ছাপাখানার প্রধান ফটক লক্ষ্য করে বোমা নিক্ষেপের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও নিন্দা জানিয়েছে ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিল (এনইসি), বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে), ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) ও জামায়াতে ইসলামী। সংগঠনগুলো ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার এবং আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে।

এনইসির বিবৃতি অনুযায়ী, গত রোববার রাত আনুমানিক ১০টা ৪৫ মিনিটে তেজগাঁওয়ের লাভ রোড এলাকায় আমার দেশ পাবলিকেশনের প্রধান ফটক লক্ষ্য করে বোমা ছোড়া হয়। এতে ছাপাখানার একজন নিরাপত্তাকর্মী আহত হন। একই সময় ঘটনাস্থলের কিছুটা সামনে আরেকটি অবিস্ফোরিত বোমাসদৃশ বস্তু পাওয়া যায়। এ ঘটনায় আমার দেশ কর্তৃপক্ষ তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছে।

সোমবার এনইসির সভাপতি শফিক রেহমান, সহসভাপতি আবদুল হাই শিকদার ও কোষাধ্যক্ষ শফিকুল আলম এক যৌথ বিবৃতিতে ঘটনার নিন্দা জানান। বিবৃতিতে তাঁরা বলেন, সংবাদপত্রের কার্যালয় ও ছাপাখানা লক্ষ্য করে বোমা নিক্ষেপ স্বাধীন গণমাধ্যমের ওপর আঘাত হানার গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ বলে তাঁরা মনে করেন। তাঁরা আশা প্রকাশ করেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, ২০১০ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে আমার দেশের সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের গাড়ি লক্ষ্য করে ককটেল নিক্ষেপ করা হয়েছিল এবং একই সময়ে তেজগাঁওয়ের সাতরাস্তার মোড়ে হাতুড়ি দিয়ে তাঁর গাড়িতে হামলা চালানো হয়।

বিএফইউজের সভাপতি ওবায়দুর রহমান শাহীন, মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী এবং ডিইউজের সভাপতি মো. শহিদুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক খুরশীদ আলম যুক্ত বিবৃতিতে বলেন, সংবাদপত্রের অফিস ও প্রেসে বোমা হামলা স্বাধীন গণমাধ্যম ও সাংবাদিকতার ওপর চরম আঘাত। তাঁরা দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান এবং আশা প্রকাশ করেন, আগের শাসনামলের মতো গণমাধ্যমের ওপর এ ধরনের হামলার পুনরাবৃত্তি ঘটবে না।

জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এক বিবৃতিতে ঘটনাকে অত্যন্ত নিন্দনীয় ও উদ্বেগজনক বলেন। তাঁর বিবৃতি অনুযায়ী, রোববার রাত ১১টার দিকে প্রেসের সামনে ককটেল নিক্ষেপের ঘটনায় প্রেসের নিরাপত্তারক্ষী আকতার হোসেন ও সামনের পানের দোকানি রিনা খানম আহত হয়েছেন। তিনি আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন এবং বলেন, গণমাধ্যমের কার্যালয় ও ছাপাখানার মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সহিংস হামলা স্বাধীন সাংবাদিকতা, গণমাধ্যমের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য হুমকি। হামলাকারীদের পরিচয় বা উদ্দেশ্য নিয়ে এখন পর্যন্ত কোনো তথ্য প্রকাশিত হয়নি।