তীব্র অপুষ্টির শিকার শিশুদের জন্য হাসপাতালে প্রায় দুই সপ্তাহ চিকিৎসা নেওয়া প্রয়োজন হলেও বিভিন্ন কারণে অধিকাংশ অভিভাবক শিশুকে নিয়ে মাঝপথেই বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন। ফলে চিকিৎসা অসম্পূর্ণ থেকে যাচ্ছে।
রাঙামাটির কাউখালীর একটি দেড় বছর বয়সী শিশু তীব্র অপুষ্টিতে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা শেষ না করেই বাড়ি ফিরেছে। তার মা জানান, চিকিৎসক আরও কয়েক দিন থাকতে বলেছিলেন, কিন্তু হাসপাতালে থাকার খরচ জোগানোর সামর্থ্য তাঁদের নেই; খাবার কিনতে হয়, বাড়ি থেকে আসা-যাওয়াতেও হাজার টাকা লাগে। শিশুটির বাবা অন্যের বাড়িতে কাজ করেন, সব সময় কাজ থাকে না। রাঙামাটির আরেক নারী জানান, জ্বর নিয়ে ভর্তি হওয়া তাঁর চার বছর বয়সী ছেলের হাম ও নিউমোনিয়া ধরা পড়ে; পরে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিতে তিনি ২৫ হাজার টাকা ধার করেছেন, কিছুদিন আগে আরও চার হাজার টাকা ধার করেছেন।
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জেও একই চিত্র। সেখানকার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত ৫৬ জন তীব্র অপুষ্টির শিকার শিশু চিকিৎসা নিয়েছে। কমপ্লেক্সের চিকিৎসক মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, বেশির ভাগ শিশুর অভিভাবক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে থেকে চিকিৎসা নিতে চান না। এক মা জানান, ফুচকা তৈরির সামগ্রী বানানো তাঁর প্রতিদিনের কাজ, ঘরে অন্য সন্তানও আছে; হামের সংক্রমণের ঝুঁকির কারণেও তিনি মেয়েকে নিয়ে হাসপাতালে থাকতে পারেননি।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো ও ইউনিসেফের ২০১৯ সালের জরিপ উল্লেখ করে বলা হয়েছে, দেশে প্রতিবছর প্রায় ১০ লাখ শিশু তীব্র অপুষ্টির শিকার হয়। অথচ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অনলাইন তথ্যভান্ডার বলছে, গত বছর হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে মাত্র ২১ হাজার ৩৬টি শিশু। খাদ্যনিরাপত্তা পরিস্থিতি বিশ্লেষণকারী আন্তর্জাতিক কাঠামো আইপিসির সর্বশেষ (জানুয়ারি-আগস্ট ২০২৬) প্রতিবেদনে চট্টগ্রাম, সিলেট ও খুলনা বিভাগের ছয়টি জেলাকে মারাত্মক তীব্র অপুষ্টির সংকটজনক পর্যায়ে (ফেজ ৪) চিহ্নিত করা হয়েছে।
নোয়াখালীর সিভিল সার্জন আনোয়ার হোসেন জানান, নদীভাঙনের কারণে কিছু এলাকায় পরিবারগুলোকে বারবার বসতি সরাতে হয়, এতে খাদ্যনিরাপত্তা ব্যাহত হয়। রাঙামাটির সিভিল সার্জন নূয়েন খীসা বলেন, পার্বত্য এলাকায় অপুষ্টি অন্য যেকোনো জায়গার তুলনায় ভয়াবহ এবং সেখানকার স্বাস্থ্যব্যবস্থা গতানুগতিক নয়। হাসপাতালে এসব শিশুর চিকিৎসায় থেরাপিউটিক মিল্ক এফ-৭৫ ও এফ-১০০ ব্যবহার করা হয়, যা প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মীরা নিরাপদ পানির সঙ্গে মিশিয়ে তৈরি করেন।