বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬

সাজেকে পর্যটক সরানোর সময় গুলির অভিযোগ ইউপিডিএফের বিরুদ্ধে, অস্বীকার সংগঠনটির

অবরোধে আটকে পড়া কয়েক হাজার পর্যটককে সরিয়ে আনার সময় ইউপিডিএফ গুলি চালিয়েছে বলে পুলিশের দাবি; সংগঠনটি বলছে, একতরফা গুলি চালিয়েছে নিরাপত্তা বাহিনীই।

রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেকে সড়ক অবরোধে আটকে পড়া পর্যটকদের সরিয়ে আনার সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে পুলিশ। পুলিশের দাবি, ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের (ইউপিডিএফ) সদস্যরা এই গুলি চালান। তবে ইউপিডিএফ অভিযোগটি মিথ্যা বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।

আজ বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সাজেক থেকে ফেরার পথে গঙ্গারাম বাজার ও উজোবাজার এলাকায় অবরোধের মুখে পড়েন কয়েক হাজার পর্যটক। পরে সেনাবাহিনী ও পুলিশ তাঁদের সেখান থেকে সরিয়ে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যায়।

পুলিশের ভাষ্য

রাঙামাটির পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব দৈনিক আমার দেশকে জানান, পর্যটকদের উদ্ধারে গেলে ইউপিডিএফের সদস্যরা গুলি ছোড়েন। সেনাবাহিনী ও পুলিশ পাল্টা গুলি চালালে হামলাকারীরা পিছু হটে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, দুপুর আড়াইটার দিকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয় এবং আটকে থাকা পর্যটকদের উদ্ধার করা সম্ভব হয়।

সাজেক থানার ওসি তোফাজ্জল হোসেন দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, সকাল ১১টার দিকে উজোবাজার থেকে পর্যটকদের সরানোর সময় অবরোধকারীরা ইটপাটকেল ছোড়েন। এতে কয়েকজন পর্যটক আহত হয়েছেন বলে তিনি শুনেছেন, তবে সংখ্যা জানাতে পারেননি। তাঁর অভিযোগ, “সশস্ত্র সংগঠন ইউপিডিএফ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপরে গুলি চালায়।”

উদ্ধার হওয়া পর্যটকদের একজন, ঢাকার নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী আলী আহসান আমার দেশকে বলেন, তাঁদের সরিয়ে নিতে আসা সেনাসদস্যদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয় এবং তাঁরা নিজেরা তা দেখেছেন।

আমার দেশের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গঙ্গারাম বাজার ও উজোবাজার সড়কে প্রায় তিন হাজার পর্যটক আটকা পড়েছিলেন; ডেইলি স্টার জানিয়েছে, উজোবাজার থেকে প্রায় ২ হাজার ৩০০ পর্যটককে সরিয়ে নেওয়া হয়। প্রায় এক ঘণ্টা আটকে থাকার পর পর্যটকদের বাঘাইহাটে নেওয়া হয়। আমার দেশ অন্তত সাতজন আহত হওয়ার কথা জানালেও তাঁরা পর্যটক, সেনাসদস্য নাকি অন্য কেউ, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

অভিযোগ অস্বীকার ইউপিডিএফের

ডেইলি স্টারের খবরে বলা হয়, ইউপিডিএফ এক বিবৃতিতে গোলাগুলির অভিযোগকে “মিথ্যা ও বানোয়াট” আখ্যা দিয়েছে। সংগঠনটির দাবি, জনসংহতি সমিতির (জেএসএস–সন্তু লারমা) একটি সশস্ত্র গোষ্ঠীকে সাজেক থেকে সরানোর দাবিতে চলা শান্তিপূর্ণ অবরোধ পণ্ড করতে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরাই একতরফাভাবে গুলি চালিয়েছেন।

কেন এই অবরোধ

সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন ও সাজেক গণ–অধিকার রক্ষা কমিটি বৃহস্পতিবার ভোর থেকে তৃতীয় দফায় অনির্দিষ্টকালের অবরোধ শুরু করে। প্রথম আলোর খবর অনুযায়ী, আগের দিন বুধবারের মধ্যেই পর্যটকদের সাজেক ছাড়ার অনুরোধ জানিয়েছিল সংগঠন দুটি। তাদের তিন দফা দাবির একটি হলো জেএসএসের সশস্ত্র সদস্যদের সাজেক এলাকা থেকে সরিয়ে নেওয়া।

এর আগে ১১ ও ১৫ অক্টোবর একই দাবিতে অবরোধ ডাকা হয়েছিল; দুর্গাপূজার কারণে কর্মসূচি কয়েক দিন স্থগিত ছিল। জেএসএস অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছে, ইউপিডিএফের চাপেই সংগঠন দুটি অবরোধ ডেকেছে।

এদিকে টানা অবরোধে শীত মৌসুমের আগে সাজেকের রিসোর্ট-কটেজ মালিক, জিপচালক, ছোট ব্যবসায়ী ও পরিবহনশ্রমিকদের আয় নিয়ে দুশ্চিন্তা বাড়ছে বলে জানিয়েছে আমার দেশ।