ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড (আইবিবিএল) বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছ থেকে নেওয়া জরুরি চাহিদাভিত্তিক ২,৩০৮ কোটি টাকার ঋণের মধ্যে ইতোমধ্যে ১,৫০৮ কোটি টাকা পরিশোধ করেছে। ব্যাংকটি জুন ও জুলাই মাসে যথাক্রমে ৮০৮ কোটি ও ৭০০ কোটি টাকা পরিশোধ করে। এখন অবশিষ্ট ঋণ রয়েছে প্রায় ৮০০ কোটি টাকা।
ব্যাংকের নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ওমর ফারুক খান দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে জানান,
> “গত আগস্টে সরকার পরিবর্তনের পর আমাদের সিআরআরের ঘাটতি ছিল ২,৩০৮ কোটি টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংক পুরো পরিমাণ ঋণ হিসেবে প্রদান করে। আমরা ইতোমধ্যে ১,৫০০ কোটির বেশি পরিশোধ করতে পেরেছি।”
তিনি আরও বলেন,
> “গত সাত মাসে আমরা প্রায় ১৪,০০০ কোটি টাকার নিট আমানত বৃদ্ধি পেয়েছি। আমানতকারী ও গ্রাহকদের আস্থা অনেকটাই ফিরে এসেছে। এখন আমরা সিআরআর এবং এসএলআর উভয়ই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী পূরণ করতে পারছি।”
বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইসলামী ব্যাংক ধীরে ধীরে সংকট কাটিয়ে উঠছে এবং বর্তমানে তাদের তারল্য পরিস্থিতি আগের তুলনায় অনেক উন্নত।
কীভাবে ঘটলো এই পরিবর্তন?
গত এক বছরে ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে।
এপ্রিল ২০২৫: সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুহাম্মদ মোনিরুল মওলা দুর্নীতির অভিযোগে বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠানো হয় এবং পরে তাঁকে অপসারণ করা হয়।
জুলাই ২০২৫: ব্যাংকের চেয়ারম্যান ওবায়েদ উল্লাহ আল মাসুদ পদত্যাগ করেন।
সম্প্রতি: ওমর ফারুক খান ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং জুবাইদুর রহমান নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নেন।
অতীতের বিতর্ক ও শিকড়ে পরিবর্তন
২০১৭ সালে সালাম গ্রুপ ইসলামী ব্যাংকের বোর্ড নিয়ন্ত্রণে নেয়। এরপর একাধিক ভূয়া ও ছদ্মনামে বিশাল অংকের ঋণ বিতরণ করা হয়। ফলে দেশের সবচেয়ে স্থিতিশীল ব্যাংকটি একসময় চরম সংকটে পড়ে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের বর্তমান গভর্নর আহসান এইচ মনসুর গত বছর দায়িত্ব নেয়ার পর ইসলামী ব্যাংকের পুরাতন বোর্ড বিলুপ্ত করে নতুন বোর্ড গঠন করেন এবং সালাম গ্রুপের প্রভাব পুরোপুরি সরিয়ে দেন।
গভর্নর মনসুর একাধিকবার গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, সালাম গ্রুপ ইসলামী ব্যাংকসহ যেসব শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকের বোর্ডে ছিল, সেখান থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার করেছে।
এক সময়ের সংকটাপন্ন ইসলামী ব্যাংক আবার ঘুরে দাঁড়াচ্ছে। সুশাসন, গ্রাহক আস্থা ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সমন্বয়ে প্রতিষ্ঠানটি আবারও দেশের ব্যাংকিং খাতে একটি স্থিতিশীল অবস্থান তৈরি করতে পারে—এমনটাই আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।