প্রশিক্ষণ নিয়ে প্রথমবারের মতো জাপানের শ্রমবাজারে প্রবেশের সুযোগ তৈরি হয়েছে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আনসার-ভিডিপি) সদস্যদের। জাপানের হিরাটা প্ল্যানিং কোম্পানি লিমিটেডের বিশেষ সাক্ষাৎকার ও দক্ষতা যাচাই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে সরাসরি চাকরির প্রস্তাব পেয়েছেন বাহিনীর চার সদস্য। বাহিনীর জাপানি ভাষা প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত প্রথম ব্যাচ থেকেই তাঁদের বাছাই করা হয়েছে। বাহিনী একে সদস্যদের বিদেশে কর্মসংস্থানের উদ্যোগের প্রথম দৃশ্যমান সাফল্য হিসেবে দেখছে।
শনিবার (৭ নভেম্বর) গাজীপুরের সফিপুরে বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপি অ্যাকাডেমিতে জাপানি প্রতিষ্ঠানটির প্রতিনিধিরা সরাসরি সাক্ষাৎকার নেন। প্রতিষ্ঠানের পরিচালক হিরাটা তোমোহিরো ও মার্কেটিং ম্যানেজার হাসেগাওয়া মিনোরু দুজন বাংলাদেশি জব ট্রেনিং প্রতিনিধিকে নিয়ে অ্যাকাডেমিতে উপস্থিত হন। সেখানে প্রশিক্ষণার্থীদের মৌখিক পরীক্ষা, কারিগরি জ্ঞান এবং জাপানি ভাষায় যোগাযোগের সক্ষমতা যাচাই করা হয়।
চাকরির প্রস্তাব পাওয়া চার সদস্য হলেন ময়মনসিংহের হোসনে মোকাম্মেল জিহাদ, সাতক্ষীরার মো. ইমানুর রহমান খান, বগুড়ার মো. রিফাত আলী এবং ফেনীর রফিকুল ইসলাম রবিন। অ্যাকাডেমির শহীদ এলাহী বক্স অডিটোরিয়ামে বিশেষ ভাইভা বোর্ডে বাহিনীর পরিচালক (প্রকল্প-প্রশিক্ষণ) মো. মইনুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। জাপানি প্রতিনিধিরা সদস্যদের কারিগরি জ্ঞান, শৃঙ্খলাবোধ, কর্মনিষ্ঠা, ভাষাগত দক্ষতা ও আচরণে সন্তোষ প্রকাশ করে তাৎক্ষণিকভাবে চারজনকে নিজ প্রতিষ্ঠানে চাকরির প্রস্তাব দেন।
নির্বাচিত সদস্যরা প্রত্যেকে জাপানি ভাষার এন-৫ ও এন-৪ স্তরে তিন মাস করে মোট ছয় মাসের প্রশিক্ষণ শেষ করেছেন। প্রস্তাব পেয়ে তাঁরা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন এবং এ সুযোগ তৈরির জন্য আনসার-ভিডিপি কর্তৃপক্ষের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
বাহিনী সূত্র জানায়, ভবিষ্যতে সদস্যদের বিদেশে কর্মসংস্থানের উপযোগী দক্ষ জনশক্তি হিসেবে গড়ে তোলা হবে। বৈধ ও নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করতে বাহিনীর নিজস্ব রিক্রুটিং প্রতিষ্ঠান প্রান্তিক শক্তি লিমিটেডের অনুকূলে সরকারি লাইসেন্স নেওয়া হয়েছে, যাতে দালাল ও মধ্যস্বত্বভোগীর প্রভাব ছাড়াই সদস্যরা বিদেশে চাকরি পেতে পারেন। তবে চাকরির প্রস্তাবের পর চুক্তি, ভিসা ও জাপানে যাত্রার আনুষ্ঠানিকতা শেষ হলেই তাঁদের প্রকৃত কর্মসংস্থান নিশ্চিত হবে।