মিরপুরের রাড্ডা MCH-FP Centre-এ হামলা-লুটপাট, চারজন গ্রেপ্তার ও পুলিশের গাফিলতি তদন্ত
২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় পাঁচ দশক ধরে স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া এই প্রতিষ্ঠানে মধ্যরাতে হামলা হয়।
রাষ্ট্র যখন নাগরিকের নিরাপত্তার বদলে ক্ষমতার নৈকট্যকে বেছে নেয়, তখন মানুষের আস্থার দেয়ালে ফাটল জন্ম নেয়, যা আইনকে নির্বাসিত করে এবং অঘোষিত বিধানের জন্ম দেয়। এর ফলে, সমাজের আইনি ও নৈতিক ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ে, যা জনজীবনে অস্থিরতা সৃষ্টি করে।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ সালের অস্থিরতা, দুর্নীতি, সহিংসতা এবং রাষ্ট্রীয় কেন্দ্রীকরণের অভিজ্ঞতা প্রমাণ করে যে জবাবদিহিতার অভাবে রাষ্ট্রের ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ে। শেখের শাসনামলের শেষ পর্যায় এবং বাকশাল প্রতিষ্ঠার ইতিহাস, বিশেষ করে ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষ এবং ১৯৭৫ সালে নির্বাহী ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ, এই ধারণার উদাহরণ।
ম্যাক্স ওয়েবারের বিশ্লেষণের সাথে আধুনিক রাষ্ট্রের বৈধ কর্তৃত্বের ধারণা জড়িত, যেখানে কর্তৃত্ব দলীয় বা ব্যক্তিগত নেটওয়ার্কে বিভক্ত হলে আইন প্রয়োগকারী ক্ষমতা ভুল হাতে চলে যেতে পারে। এটি রাষ্ট্রের মূল কাজ—নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা—ব্যাহত করে, এবং এর ফলস্বরূপ জনমনে আস্থার সংকট দেখা দেয়।
মিরপুরের রাড্ডা MCH-FP Centre-এর সাম্প্রতিক ঘটনা, যেখানে প্রায় পাঁচ দশক ধরে স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে আসা প্রতিষ্ঠানটিতে ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, মধ্যরাতে দুই শতাধিক মুখোশধারী ব্যক্তি হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুর চালায় এবং ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে স্থাপনা ধ্বংস করে। এই ঘটনাটি এই সমস্যার গভীরতা বাড়িয়েছে।
পুলিশ এই ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে এবং তারা অর্থের বিনিময়ে হামলায় অংশ নেওয়ার কথা স্বীকার করেছে। এই হামলার পেছনে স্থানীয় বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলেও, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দায় তদন্তেই নির্ধারিত হবে। এছাড়া, ঘটনাস্থলে পুলিশের উপস্থিতি ও সম্ভাব্য গাফিলতি নিয়েও একটি তদন্ত শুরু হয়েছে। জমির মালিকানা নিয়ে পক্ষগুলোর ভিন্ন দাবি রয়েছে।
এই ঘটনাটি শুধুমাত্র একটি ভবনের ধ্বংস নয়, বরং নাগরিক ও রাষ্ট্রের মধ্যে আস্থার অদৃশ্য সেতু ভেঙে ফেলার প্রতীক, যা জন লকের দর্শনে বর্ণিত রাষ্ট্রের বৈধতার ভিত্তিকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। জন লকের দর্শনে জীবন, স্বাধীনতা ও সম্পত্তির নিরাপত্তাই রাষ্ট্রের বৈধতার ভিত্তি।
মিশেল ফুকোর ‘গভর্নমেন্টালিটি’ ধারণা দেখায় যে, ক্ষমতা নিয়ম, নজরদারি ও প্রশাসনিক আচরণের মধ্য দিয়েও প্রবাহিত হয়, কিন্তু সহিংসতা দীর্ঘমেয়াদী বৈধতা আনতে পারে না। যদি চাঁদাবাজি, দখল এবং প্রশাসনিক পক্ষপাতকে রাজনৈতিক সংস্কৃতির অংশ হিসাবে গ্রহণ করা হয়, তাহলে অপরাধ মানুষের সামাজিক অভ্যাসে প্রবেশ করে, যা ডগলাস নর্থের প্রাতিষ্ঠানিক অর্থনীতির কাঠামোর বিপরীতে কাজ করে।
এই সমস্যাটি কোনো নির্দিষ্ট দলের রোগ নয়, বরং রাজনৈতিক সংস্কৃতির দীর্ঘস্থায়ী কাঠামোগত সমস্যা, যা রেমন্ড উইলিয়ামসের ‘স্ট্রাকচার অব ফিলিংস’ ধারণার মাধ্যমে মানুষের রাজনৈতিক অনুভূতিকে প্রভাবিত করে। ১৯৭৫, ক্রসফায়ার রাজনীতি, গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা, দলীয়করণ এবং সাম্প্রতিক গণঅভ্যুত্থানকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখা যায় না, বরং এগুলো সতর্ক ঘণ্টা হিসেবে কাজ করে, যা দেখায় যে জাতি একই দরজায় ফিরে এসে দেখে তালা বদলেছে, কিন্তু দরজা বদলায়নি।