সোমবার, ০২ নভেম্বর, ২০২৬

মিরপুরের সহিংসতায় পাঁচ মামলা, সোমবার আটক ২৯; ‘শ্রমিক আন্দোলনের নামে’ অস্থিরতায় কঠোর ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

মিরপুরে পোশাকশ্রমিকদের বিক্ষোভ ঘিরে সহিংসতায় পাঁচটি মামলা হয়েছে, সোমবার আটক হয়েছেন ২৯ জন; স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, আন্দোলনের আড়ালে অস্থিরতা সৃষ্টিকারীদের কঠোর হাতে দমন করা হবে।

ন্যূনতম মজুরির দাবিতে রাজধানীর মিরপুরে পোশাকশ্রমিকদের বিক্ষোভ ঘিরে সহিংসতার ঘটনায় এ পর্যন্ত পাঁচটি মামলা হয়েছে। সোমবার (২ নভেম্বর) সকাল থেকে মিরপুর এলাকা থেকে ২৯ জনকে আটক করা হয়েছে বলে দুপুরে জানান পুলিশ কর্মকর্তা মহিদুল ইসলাম। একই দিন সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ হুঁশিয়ারি দেন, শ্রমিক আন্দোলনের নামে যাঁরা আইনশৃঙ্খলা ভাঙবেন বা অস্থিরতা তৈরি করবেন, তাঁদের ‘কঠোর হাতে দমন’ করা হবে।

মামলা ও আটক

ইত্তেফাকের প্রতিবেদনে মহিদুল ইসলামকে পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি হিসেবে উল্লেখ করে ২৯ জনকে গ্রেপ্তারের কথা বলা হয়েছে। বাংলা ট্রিবিউন তাঁকে ঢাকা মহানগর পুলিশের যুগ্ম কমিশনার হিসেবে উল্লেখ করেছে এবং দুপুর পর্যন্ত গ্রেপ্তারের সংখ্যা ৩০ জন লিখেছে। মহিদুল ইসলাম বলেন, শ্রমিক আন্দোলনের নামে কেউ যাতে বিশৃঙ্খলা করতে না পারে, সে জন্য পুলিশ সতর্ক রয়েছে; রাজনৈতিক পরিচয় কাজে লাগিয়ে কেউ অস্থিতিশীলতা তৈরি করতে চাইলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর অবস্থান নেবে। ইত্তেফাক আরও জানায়, রোববার মিরপুর, গাজীপুর, সাভার ও আশুলিয়ার ঘটনায় অন্তত ৫০ জন গ্রেপ্তার হয়েছিলেন।

রোববার মিরপুরে শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের কয়েক দফা সংঘর্ষের সময় মিরপুর-১১ মেট্রো স্টেশনের নিচে পুলিশের একটি পিকআপে আগুন দেওয়া হয়। বাংলা ট্রিবিউন জানায়, একটি পুলিশ বক্সেও আগুন দেওয়া হয় এবং আগুন নেভাতে যাওয়া ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা হামলার শিকার হন।

ফেসবুক পোস্টের সূত্রে আটক

পিকআপে আগুন দেওয়ার ঘটনায় নিজের সম্পৃক্ততার কথা লিখে ফেসবুকে পোস্ট দেওয়ার অভিযোগে রাজিব চন্দ্র দাস নামের এক যুবককে আটক করেছে উত্তরা পশ্চিম থানা পুলিশ। পদ্মা টাইমস ও বাংলা ট্রিবিউন জানায়, রোববার রাত ১১টার পর উত্তরার ৯ নম্বর সেক্টরের একটি বাড়ি থেকে তাঁকে ধরা হয়; থানার ওসি খালিদ মনসুর আটকের তথ্য নিশ্চিত করেছেন। পুলিশের ভাষ্য, পোস্টের সূত্র ধরে তাঁর অবস্থান শনাক্ত করা হয়েছিল। ঘটনায় তাঁর সম্পৃক্ততা যাচাই এবং পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া চলছে। এ বিষয়ে তাঁর কোনো বক্তব্য প্রতিবেদনগুলোতে আসেনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যা বললেন

সোমবার সকালে পোশাকমালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের পর সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অভিযোগ করেন, ‘পতিত স্বৈরাচারের’ সমর্থক কিছু পক্ষ নিরীহ শ্রমিকদের ব্যবহার করে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে এবং সড়ক অবরোধ ও অগ্নিসংযোগে যারা ইন্ধন দিচ্ছে, তাদের চিহ্নিত করা হয়েছে। তিনি জানান, এমন কয়েকজনকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে এবং তাঁদের কর্মকাণ্ডের ভিডিও ফুটেজসহ প্রমাণ সংগ্রহ করা হয়েছে।

প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী দাবি করেন, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত কিছু শিল্পমালিক, সাবেক সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রীও এর পেছনে আছেন। তাঁর ভাষ্য, কিছু মালিক উদ্দেশ্যমূলকভাবে কারখানা বন্ধ রেখেছেন; মালিক সংগঠনগুলোর কাছে তাঁদের এবং অস্থিরতায় জড়িত শ্রমিকনেতা ও সংগঠনের তালিকা চাওয়া হয়েছে। অভিযুক্তদের নাম প্রকাশ করা হয়নি।

মন্ত্রী জানান, পুলিশ সদর দপ্তরে একটি নিয়ন্ত্রণকক্ষ বসিয়ে সুরক্ষা অ্যাপের মাধ্যমে শিল্পাঞ্চলে ২৪ ঘণ্টা নজরদারি চলবে। সরকার এক মুহূর্তের জন্যও কোনো কারখানা বন্ধ দেখতে চায় না বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, রোববার গঠিত মজুরি বোর্ড শিগগির বসবে এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ন্যূনতম মজুরি ঘোষণা করা হবে। কালের কণ্ঠ জানায়, বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে শ্রমিক সংগঠনগুলোর নেতাদের সঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও শ্রমমন্ত্রীর বৈঠক শুরু হয়।

রাজনৈতিক অভিযোগ

অস্থিরতার দায় নিয়ে রাজনৈতিক অভিযোগও উঠেছে। প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন সোমবার ফেসবুকে দাবি করেন, শ্রমিক আন্দোলনের নামে জামায়াতে ইসলামী রাজপথ উত্তপ্ত করছে এবং আন্দোলনে ঢুকে আওয়ামী লীগের লোকজন আগুন দিচ্ছে। পদ্মা টাইমস জানিয়েছে, এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা নিশ্চিত হওয়া যায়নি এবং সংশ্লিষ্ট দলগুলোর বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।