শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর, ২০২৬

অর্থবছর জুলাই-জুনের বদলে হচ্ছে এপ্রিল-মার্চ, ২০২৭-২৮ সালের বাজেট হবে মাত্র নয় মাসের

অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, অর্থবছরের মেয়াদ বদলের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে ২০২৭-২৮ অর্থবছরকে অন্তর্বর্তী ধরে নিয়ে জুলাই ২০২৭ থেকে মার্চ ২০২৮ পর্যন্ত বাজেট প্রণয়নের প্রস্তুতি চলছে।

দেশের অর্থবছর জুলাই-জুনের পরিবর্তে এপ্রিল-মার্চ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এর ফলে বাজেটের প্রচলিত ধরনে বড় পরিবর্তন আসছে। অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ২০২৭-২৮ অর্থবছরকে অন্তর্বর্তী বা ট্রানজিশনাল অর্থবছর হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, আগামী অর্থবছরের বাজেট হবে প্রচলিত ১২ মাসের বদলে মাত্র ৯ মাসের। জুলাই ২০২৭ থেকে মার্চ ২০২৮ সময়ের জন্য এই বাজেট প্রণয়ন করা হবে। এরপর ২০২৮-২৯ অর্থবছর থেকে এপ্রিল-মার্চ মেয়াদের পূর্ণাঙ্গ অর্থবছর চালু হবে। এতে বাজেটের মেয়াদের পাশাপাশি রাজস্ব আদায়, উন্নয়ন ব্যয় ও সরকারি হিসাবরক্ষণেও পরিবর্তন আনতে হবে।

সম্প্রতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের মধ্যমেয়াদি সামষ্টিক অর্থনৈতিক কাঠামো নিয়ে অর্থ বিভাগের ওয়ার্কিং গ্রুপের সভা হয়েছে। বৈঠকে চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকের জিডিপি প্রবৃদ্ধিসহ বিভিন্ন সূচক আলোচনায় আসে। একই সঙ্গে নয় মাসের ট্রানজিশনাল অর্থবছরের সূচকের হিসাব নিয়েও কথা হয়েছে। বৈঠক সূত্র জানায়, দীর্ঘস্থায়ী মূল্যস্ফীতিতে মানুষের প্রকৃত আয় ও ক্রয়ক্ষমতা কমছে, উৎপাদন ব্যয় বাড়ায় শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মুনাফা কমছে এবং নতুন বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত পিছিয়ে যাচ্ছে।

অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, অর্থবছরের সময়কাল পরিবর্তন–সংক্রান্ত কমিটি ইতোমধ্যে প্রথম বৈঠক করেছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় তার অধীন নয়টি দপ্তর ও সংস্থাকে নিজ নিজ তথ্য ও মতামত পাঠাতে বলেছে। কমিটি আইনগত পরিবর্তন, সংবিধানের ধারায় সংশোধনের প্রয়োজন এবং রাজস্ব ও কর-সংক্রান্ত বিষয়গুলো যাচাই করছে।

অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আবু আহমেদ বলেন, সরকার যথেষ্ট চিন্তাভাবনা করেই বাজেটের সময় বদলের উদ্যোগ নিয়েছে বলে তিনি মনে করেন। বছরের শুরুতেই অর্থবছরের কার্যক্রম শুরু হলে অবকাঠামো খাতের কাজ ত্বরান্বিত হতে পারে বলে তাঁর মত। তবে নতুন ব্যবস্থায় যাওয়ার সময় সরকারকে অনেক বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।