উত্তর কোরিয়া আজ বৃহস্পতিবার তাদের পূর্ব উপকূলের দিকে সাগরে প্রায় এক ডজন স্বল্পপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে বলে জানিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। দেশটির যৌথ বাহিনী প্রধানের কার্যালয় (জেসিএস) এক বিবৃতিতে বলেছে, উত্তর কোরিয়ার ওনসান এলাকা থেকে স্থানীয় সময় দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে (গ্রিনিচ সময় সকাল ৩টা ৩০ মিনিট) এসব ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী নজরদারি জোরদার করেছে এবং আরও উৎক্ষেপণের আশঙ্কায় প্রস্তুতি বজায় রেখেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের সঙ্গে তারা ঘনিষ্ঠভাবে তথ্য বিনিময় করছে। জাপানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, উত্তর কোরিয়া এমন একটি বস্তু ছুড়েছে, যা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হতে পারে এবং সেটি জাপানের একচেটিয়া অর্থনৈতিক অঞ্চলের বাইরে পড়েছে। জাপানের কোস্টগার্ডও জানায়, বস্তুটি ইতিমধ্যে সাগরে পড়ে গেছে এবং জাহাজগুলোকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
উত্তর কোরিয়া সর্বশেষ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছিল ১২ অক্টোবর। সীমান্তে এক মাইন বিস্ফোরণে দক্ষিণ কোরিয়ার তিন সেনা আহত হওয়ার পর গত মাসে দুই কোরিয়ার মধ্যে উত্তেজনা বেড়েছে। এ বছর পিয়ংইয়ং ১০ বারের বেশি ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়েছে বলে জানা গেছে। সম্প্রতি তারা নতুন নির্ভুল-নিশানার টর্পেডো ব্যবস্থা এবং মাঝারি পাল্লার একটি হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রসহ বিভিন্ন অস্ত্রের পরীক্ষা করেছে; দুটিতেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে।
সীমান্তের উত্তেজনা
দক্ষিণ কোরিয়া ও জাতিসংঘের যৌথ তদন্তে এ মাসের শুরুতে বলা হয়, এক বছরের বেশি আগে উত্তর কোরিয়া ওই মাইন পুঁতেছিল। সিউল এটিকে সামরিক বিরতি চুক্তির ‘স্পষ্ট লঙ্ঘন’ বলে অভিযোগ করে এবং উত্তরকে সংলাপে ফেরার আহ্বান জানায়। গত সপ্তাহে দক্ষিণ কোরিয়া সীমান্তের সঠিক অবস্থান নিশ্চিত করতে এবং যোগাযোগ চ্যানেল পুনরায় চালুর বিষয়ে আলোচনায় সামরিক বৈঠকের প্রস্তাব দিয়েছিল। তবে উত্তর কোরিয়া এখনো সাড়া দেয়নি; প্রেসিডেন্ট লি জায়ে-মিয়ংয়ের এই উদ্যোগকে দেশটির নেতা কিম জং উনের বোন কিম ইয়ো জং ‘প্রহসনের চূড়ান্ত’ বলে উপহাস করেছেন।