তুরস্ক ও লিবিয়ার মধ্যে ভূমধ্যসাগরে সমুদ্রসীমা নির্ধারণ নিয়ে হওয়া সমঝোতা স্মারককে ‘সম্পূর্ণ বাতিল ও অকার্যকর’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে মিসর। বুধবার (২১ অক্টোবর) দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এই স্মারকের কোনো আইনি কার্যকারিতা নেই। একই সঙ্গে গ্রিসের সঙ্গে ২০২০ সালে করা নিজেদের সমুদ্রসীমা চুক্তির প্রতি অবস্থান আবারও স্পষ্ট করেছে কায়রো।
মিসরের বিবৃতিতে বলা হয়, লিবিয়ার প্রতিনিধি পরিষদ স্মারকটি অনুমোদন করলেও তাতে মিসরের ওপর ‘কোনো ধরনের আইনি প্রভাব’ পড়বে না। মিডল ইস্ট আই লিখেছে, এই অবস্থান পূর্ব ভূমধ্যসাগরে মিসরের অংশীদার গ্রিসের পক্ষে গেছে, কারণ মিসর–গ্রিস চুক্তির সীমারেখা তুরস্কের চুক্তির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
পূর্ব লিবিয়ার পার্লামেন্টের অবস্থান বদল
তুরস্কের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আনাদোলুর খবর অনুযায়ী, পূর্বাঞ্চলভিত্তিক লিবিয়ার প্রতিনিধি পরিষদ মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সর্বসম্মতভাবে স্মারকটি অনুমোদন করে। স্মারকটি ২০১৯ সালের নভেম্বরে তুরস্ক এবং ত্রিপোলিভিত্তিক তৎকালীন জাতীয় ঐক্যের সরকারের মধ্যে সই হয়েছিল। একই অধিবেশনে আইনপ্রণেতারা ২০২০ সালের দুটি প্রস্তাবও বাতিল করেন—একটিতে চুক্তির অনুমোদন প্রত্যাখ্যান করা হয়েছিল, অন্যটিতে আঙ্কারার সঙ্গে রাজনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার আহ্বান ছিল।
পূর্ব লিবিয়া নিয়ন্ত্রণ করেন খলিফা হাফতার। মিডল ইস্ট আই জানিয়েছে, তাঁর ছেলে ও উত্তরসূরি হিসেবে বিবেচিত সাদ্দাম হাফতার সামাজিক মাধ্যমে এই অনুমোদনকে স্বাগত জানিয়েছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্রের বরাতে সংবাদমাধ্যমটি বলেছে, ত্রিপোলির শাসকদের সঙ্গে বৃহত্তর ক্ষমতা ভাগাভাগির সমঝোতায় তিনি আঙ্কারার সমর্থন চাইছেন।
তুরস্কের দাবি, বিরোধীদের আপত্তি
তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় লিবীয় পার্লামেন্টের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেছে, আন্তর্জাতিক আইন ও ন্যায্যতার নীতির ভিত্তিতে স্মারকটি দুই দেশের পারস্পরিক অধিকার ও স্বার্থ রক্ষা করে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান বুধবার বলেন, আইনি ও বিধিগত—উভয় দিক থেকেই এটি ‘পুরোপুরি বৈধ’ চুক্তি। আপত্তি তোলা দেশগুলোর উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘তারা কেন প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে, তা আমরা জানি।’
অন্যদিকে ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অভিযোগ করেছে, তুরস্ক পূর্ব ভূমধ্যসাগর অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন বলেছে, চুক্তিটি জাতিসংঘের সমুদ্র আইনবিষয়ক সনদ লঙ্ঘন করে।
বিরোধের মূলে রয়েছে একচেটিয়া অর্থনৈতিক অঞ্চল। গ্রিসের দাবি, রোডস ও ক্রিটের মতো দ্বীপগুলোরও নিজস্ব অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রাপ্য; তুরস্ক তা মানে না। গ্রিস জাতিসংঘের ওই সনদে সই করলেও তুরস্ক করেনি। মিডল ইস্ট আই জানায়, গ্রিস দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছে, তুরস্কের সঙ্গে বিরোধ আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে নিষ্পত্তিতে তারা প্রস্তুত। সম্প্রতি মিসর ও তুরস্কের সম্পর্কে উষ্ণতা ফিরলেও কয়েক দিন আগে লিবিয়া প্রসঙ্গে আলোচনা করতে মিসরের একটি প্রতিনিধিদল এথেন্স সফর করেছে।