সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬

মোহাম্মদপুরে ব্যবসায়ীকে অপহরণ ও ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির মামলা: ডিজিএফআইয়ের দুই সদস্যসহ ছয়জন কারাগারে

রোববার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত গ্রেপ্তার ছয়জনকে কারাগারে রাখার আদেশ দিয়েছেন।

ঢাকার মোহাম্মদপুরে এক ব্যবসায়ীকে ফাঁদে ফেলে অপহরণ এবং ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে করা মামলায় ডিজিএফআইয়ের দুই সদস্যসহ ছয়জনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। রোববার (২৫ অক্টোবর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল হকের আদালত এ আদেশ দেন।

কারাগারে পাঠানো ছয় আসামির মধ্যে সার্জেন্ট আল মামুন ও ল্যান্স করপোরাল মো. নুরুজ্জামান ডিজিএফআইয়ের সদর দপ্তরে কর্মরত। আরেক আসামি মো. সোহেল রানা আনসার সদস্য। বাকি তিন আসামি হলেন মো. মুকুল গাজী, মাহফুজুর রহমান ও মো. জিয়াউল ইসলাম। আদালতের প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক (এসআই) মিজানুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে আসামিদের আদালতে হাজির করে মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। আবেদনে বলা হয়, প্রাথমিক তদন্তে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ঘটনার সঙ্গে সরাসরি জড়িত থাকার পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে এবং সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে তাঁদের কারাগারে রাখা প্রয়োজন। শুনানির সময় আসামিদের পক্ষে কোনো আইনজীবী আদালতে উপস্থিত ছিলেন না।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গ্রেপ্তার আসামিদের মধ্যে সোহেল রানা ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীর প্রতিবেশী। পরিচয়ের সূত্র ধরে তাঁদের মধ্যে সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে। গত ২৪ অক্টোবর রাত ৯টার দিকে সোহেল ওই ব্যবসায়ীকে চন্দ্রিমা মডেল টাউনের ৬ নম্বর রোডের একটি বাড়ির ষষ্ঠ তলার ফ্ল্যাটে নিয়ে যান। সেখানে পৌঁছানোর পর ওয়াশরুমে যাওয়ার কথা বলে তিনি ঘর থেকে বেরিয়ে যান।

এজাহারের বর্ণনা অনুযায়ী, এর কিছুক্ষণের মধ্যে অন্য আসামিরা ফ্ল্যাটে ঢুকে ব্যবসায়ীকে জোর করে আটকে রাখেন এবং ভয় দেখিয়ে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। মামলার আরজিতে আরও বলা হয়, অপহরণকারীদের হাত থেকে রক্ষা পেতে ওই ব্যবসায়ী মোটরসাইকেল কেনার জন্য সঙ্গে রাখা নগদ ৭০ হাজার টাকা তাঁদের দিয়ে দেন।

মামলাটি এখনো তদন্তাধীন। অভিযুক্ত ব্যক্তিদের দোষ আদালতে প্রমাণিত হয়নি।