ফ্লাইট বিপর্যয়ের কারণে বাংলাদেশে আটকা পড়া যেসব সৌদি প্রবাসীর আকামার (ইকামা) মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে, তাঁরাও দেশটিতে প্রবেশের সুযোগ পাবেন বলে জানিয়েছেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। সোমবার দুপুরে রাজধানীর ইস্কাটনে বিয়াম ফাউন্ডেশন অডিটোরিয়ামে এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, যুদ্ধ পরিস্থিতির উন্নতি বুঝে কর্মীরা যখন সৌদি আরবে যেতে পারবেন, তখন তাঁরা দেশটির সিস্টেমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবেন এবং প্রবেশের অনুমতি পাবেন। সন্ধ্যায় মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতেও এসব তথ্য জানানো হয়।
সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতিদের হামলার পরিপ্রেক্ষিতে ফ্লাইট বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। এ পর্যন্ত বাংলাদেশের সঙ্গে সরাসরি ও ট্রানজিট রুটে চলাচলকারী ১৪৪টি ফ্লাইটের কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। ফলে ছুটি শেষে নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থলে ফিরতে পারছেন না অনেক প্রবাসী কর্মী। এঁদের অনেকে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসেও ফ্লাইট বাতিল বা স্থগিত হওয়ায় যেতে পারেননি।
অভিবাসন ব্যয় নিয়ে মন্ত্রী বলেন, ৩ লাখ টাকায় যেখানে যাওয়া সম্ভব, সেখানে ৭-৮ লাখ টাকা নেওয়া অনুচিত। রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোকে ব্যয় কমাতে হবে। সরকার ও রিক্রুটিং এজেন্সি এক হয়ে কাজ করলে জনশক্তি রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
মন্ত্রী আরও জানান, কর্মীদের বিদেশ যাওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করতে এবং ভিসার বৈধতা দ্রুত যাচাই করতে জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোয় (বিএমইটি) আধুনিক প্রযুক্তি চালুর কাজ চলছে। যেকোনো অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য উন্মুক্ত ই-মেইল সেবা চালুর উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক সৌদি আরবের কারাগারে বন্দী বাংলাদেশিদের আগামী রমজানে বিশেষ ক্ষমার আওতায় আনার বিষয়ে সৌদি সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত আবদুল্লাহ জাফর এইচ বিন আবিয়া বলেন, সৌদি আরবে নিজ দেশের নাগরিকদের পর সবচেয়ে বেশি বাস করেন বাংলাদেশের কর্মীরা এবং দুই দেশের সুসম্পর্ক শ্রম খাতে আরও জোরদার হবে। সভায় রিক্রুটিং এজেন্সির প্রতিনিধিরা তাকামুল পরীক্ষা সহজ করা ও ফি কমানোর দাবি জানান।