বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬

এডেন বিমানবন্দরে হুতিদের দুই ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, দাবি ইয়েমেনি সেনাবাহিনীর; হুতিদের অভিযোগ, ২৪ ঘণ্টায় সৌদি জোটের ১০১ হামলা

ইয়েমেনের সরকারি সেনাবাহিনী বলছে, গত কয়েক দিনে এডেন বিমানবন্দরে এটি ষষ্ঠ হামলা; দুই পক্ষের যুদ্ধক্ষেত্রের দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।

ইয়েমেনের এডেন বিমানবন্দরে বুধবার দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে হুতি গোষ্ঠী। ইয়েমেনের সশস্ত্র বাহিনীর মুখপাত্র কর্নেল মাজিদ আল-নুজাইলি এ কথা জানিয়েছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, গত কয়েক দিনে বিমানবন্দরটিতে এটি ষষ্ঠ হামলা। এতে বেসামরিক মানুষ আহত হয়েছেন এবং বিমানবন্দরের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

আল-নুজাইলি বলেন, এ হামলা বেসামরিক ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ওপর মিলিশিয়াদের ধারাবাহিক হামলার অংশ, যা মানুষের জীবন ও আকাশপথের নিরাপত্তা দুটোর জন্যই হুমকি। ইয়েমেনের পরিবহন মন্ত্রণালয়ও হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেছে, এভাবে বিমানবন্দরে হামলা চলতে থাকলে বেসামরিক বিমান চলাচলের নিরাপত্তা মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়বে।

একই দিনে মুখপাত্র জানান, ‘অপারেশন ডন অব ইয়েমেন’-এর অংশ হিসেবে ২৪ ঘণ্টায় হুতিদের লক্ষ্যবস্তুতে সরকারি বাহিনী ৭৪৯টি অভিযান চালিয়েছে। এসব অভিযানে হুতিদের ২৩৯ কমান্ডার ও যোদ্ধাকে ‘নিষ্ক্রিয়’ করা হয়েছে এবং ১১৭টি সামরিক যান ও যুদ্ধসরঞ্জাম ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাঁর দাবি, অভিযানে হুতিদের কমান্ড কেন্দ্র, দুর্গ, গুলি ছোড়ার অবস্থান, সরবরাহ ও রসদের পথ লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। সেনাবাহিনী ও মিত্র গণ-প্রতিরোধ বাহিনী দক্ষিণ-পশ্চিমের তাইজ প্রদেশে অগ্রগতি সংহত করছে এবং আল-জাওফ, মারিব ও আল-বাইদা প্রদেশেও অভিযান চলছে।

অন্যদিকে হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করেছেন, গত ২৪ ঘণ্টায় সৌদি যুদ্ধবিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র সানা ও আল-জাওফ, তাইজ, আমরান, হাজ্জাহ, সাদা, আল-দালে, আল-মাহউইত ও লাহজ প্রদেশে বেসামরিক স্থাপনায় ১০১টি হামলা চালিয়েছে। তাঁর দাবি, হামলায় নারী ও শিশুসহ কয়েক ডজন মানুষ হতাহত হয়েছেন, তবে সুনির্দিষ্ট সংখ্যা তিনি জানাননি। সারির ভাষ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ উত্তেজনা শুরুর পর সৌদি বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সংখ্যা ৩ হাজার ৪৮০-তে পৌঁছেছে। এসব হামলায় এফ-১৫ ও টাইফুন যুদ্ধবিমান ব্যবহৃত হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।

কোনো পক্ষের যুদ্ধক্ষেত্রের দাবিই স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ২০১৪ সালে হুতিরা রাজধানী সানা দখলের পর থেকে ইয়েমেনে সংঘাত চলছে; ২০১৫ সালের মার্চে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের সমর্থনে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক হস্তক্ষেপ শুরু হয়। দীর্ঘ এই সংঘাতে ইয়েমেন বিশ্বের অন্যতম বড় মানবিক সংকটে পড়েছে এবং লাখ লাখ মানুষ ত্রাণনির্ভর হয়ে আছে।