উচ্চ মূল্যস্ফীতির চাপে তৈরি পোশাক শ্রমিকদের মজুরি পুনর্নির্ধারণের দাবি জোরালো হচ্ছে। সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নবম পে স্কেল অনুমোদনের পর এবার বেসরকারি খাতে, বিশেষ করে পোশাকশিল্পে বেতন বাড়ানোর চাপ তৈরি হয়েছে।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে দেশের সার্বিক মূল্যস্ফীতি ছিল ৮.৩৪ শতাংশ; আগস্টে ছিল ৮.২৬ শতাংশ। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের পূর্বাভাস, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে গড় মূল্যস্ফীতি প্রায় ১১ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। ৩১ আগস্ট মন্ত্রিসভা সরকারি চাকরিজীবীদের নবম পে স্কেল অনুমোদন করে।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর তথ্যমতে, দেশের রপ্তানি আয়ে তৈরি পোশাকের অবদান প্রায় ৮১ শতাংশ, অর্থাৎ প্রায় ৩৯ বিলিয়ন ডলার। ২০২৪ সালের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাড়ে তিন হাজারের মতো কারখানায় প্রায় ৪০ লাখ শ্রমিক কাজ করেন, যাঁদের প্রায় ৬২ শতাংশ নারী। ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে ন্যূনতম মজুরি ৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১২ হাজার ৫০০ টাকা করা হয়, অর্থাৎ ৫৬.২৫ শতাংশ বৃদ্ধি।
সম্প্রতি মজুরি বাড়ানোসহ বিভিন্ন দাবিতে রাজধানীর উত্তরায় টানা ছয় দিন আন্দোলন করেন শ্রমিকদের একাংশ। অস্থিরতার মধ্যে ছয়টি কারখানা বন্ধ ঘোষণা করা হয়। কারখানা কর্তৃপক্ষ জানায়, কিছু শ্রমিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে অন্যদের কাজ বন্ধে উসকানি দেন। তবে বিজিএমইএর একাধিক সূত্র জানিয়েছে, বন্ধের দুই দিন পরই কারখানাগুলো পুরোদমে চালু হয়েছে।
শ্রমিক সংগঠনের দাবির মুখে সরকার তৈরি পোশাক খাতে নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠনের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, শ্রম সচিব মো. আবদুর রহমান তরফদার এবং বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর সভাপতিদের বৈঠকে দুই মালিক সংগঠনের সম্মতিতে এ সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়। ১৫ অক্টোবর বোর্ড পুনর্গঠনের জন্য সদস্য চেয়ে আহ্বান জানায় শ্রম মন্ত্রণালয়। চলতি মাসেই বোর্ড গঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, মজুরি বোর্ড গঠনের উদ্যোগের পর আন্দোলনের যৌক্তিকতা নেই। বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, দুই সংগঠনই মজুরি বৃদ্ধিতে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে; মালিকপক্ষ সম্মত হওয়ার পর আন্দোলন কেন হচ্ছে, সেই প্রশ্ন তিনি তোলেন।
গার্মেন্টস ফেডারেশন ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক মির্জা আল শামীম বলেন, আন্দোলন যৌক্তিক হলেও সরকারের উদ্যোগের পর অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা সন্দেহজনক; তাঁর দাবি, কিছু ব্যক্তি আন্দোলনে ইন্ধন দিচ্ছেন। উত্তরার আন্দোলনে বামপন্থী সংগঠনের সম্পৃক্ততার কথা মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের কয়েকজন নেতা বলেছেন। তবে গার্মেন্টস শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সভাপতি মন্টু ঘোষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।